জাতীয়


যেসব পণ্যের দাম বাড়বে, যেসব পণ্যের দাম কমবে

যেসব পণ্যের দাম বাড়বে, যেসব পণ্যের দাম কমবে

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এ বাজেটে মোটাদাগে করহার বাড়ানো হচ্ছে। ফলে অনেক নিত্যব্যবহার্য জিনিস যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিস্যু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে বাড়বে অনেক পণ্যের দাম, কমতেও পারে কিছু। দেখে নেওয়া যাক যেসব পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে।দাম বাড়বেমোবাইল ফোন: স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজন পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। তাই মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।এলপি গ্যাস: উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সিলিন্ডার বানানোর কাজে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ হয়েছে। এ কারণে এলপি গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।কলম: কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি ছিল, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে শিক্ষা উপকরণ কলমের দাম বাড়তে পারে।চশমার ফ্রেম: চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। তাই বাড়তে পারে চশমার ফ্রেমের দামও।সাইকেল: সাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তাই সাইকেলের দাম বাড়তে পারে।প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র: বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে তৈজসপত্রের দাম বাড়তে পারে।টিস্যু পেপার: কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু/পকেট টিস্যু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিস্যু পেপারের দাম বাড়তে পারে।মাইক্রোওয়েভ ওভেন: শুল্ক ফাঁকি রোধে মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমদানির শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে।বাসমতি চাল: নন ফর্টিফাইড বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানো হয়েছে। এতে এই চালের দাম বাড়তে পারে।খেজুর: শুল্ক-ফাঁকি রোধে তাজা ও শুকনো খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে খেজুরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কাজুবাদাম: স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়াতে কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও ফল-বাদাম আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।সিগারেট: এবারও সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানো হয়েছে। কাজেই সব ধরনের সিগারেটের দামই বাড়তে পারে।সিমেন্ট: সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আছে। এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে বিধায় সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে।এছাড়াও দাম বাড়তে পারে শিরিষ কাগজ, আঠা বা গ্লু, মাছের টুকরা, চিজ ও দই, চা-কফিমেট, গ্যাস লাইটার প্রভৃতি পণ্যের।দাম কমবেমিষ্টি: বিপণন পর্যায়ে মিষ্টিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। এটি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করায় মিষ্টির দাম কমতে পারে।কীটনাশক: কৃষিকাজে ব্যবহৃত কীটনাশক, বালাইনাশক ও আগাছানাশকের দাম কমতে পারে। কারণ এসব উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।স্প্রেয়ার মেশিন: কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ড্রায়ার, স্প্রেয়ার মেশিনে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাই এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ জুন ২০২৩


৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ; মূল্যস্ফীতি, বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও আইএমএফ সুদ পরিশোধ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে

৭,৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ; মূল্যস্ফীতি, বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও আইএমএফ সুদ পরিশোধ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে রাজস্ব আদায়ে। এর মধ্যেই এই খাতে আগামী বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে মোটা অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইএমএফ-এর শর্ত পূরণ করতে গিয়েই মূলত সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। যদি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় কম হয়, সেক্ষেত্রে ব্যয় মেটাতে বেড়ে যাবে সরকারের ব্যাংক ঋণ।এছাড়া আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি, বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধ ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, আয় কমে যাওয়ায় একধরনের অর্থ সংকটে ভুগছে সরকার।এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আজ ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করবেন। আগামী (২০২৩-২৪) অর্থবছরের এই বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বেলা ৩টায় বাজেট পেশ করার আগে দিনের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হবে। এটি হবে বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের পঞ্চম এবং শেষ বাজেট। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ’। স্মার্ট বাংলাদেশ চারটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।এগুলো হচ্ছে-স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রথম বাজেট।এর মধ্য দিয়ে ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে স্মার্ট যুগে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাবেন অর্থমন্ত্রী। যদিও সেখানে পৌঁছতে রয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা। আগামী বাজেটে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এ খাতে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল রাখা হচ্ছে।এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থবছরের পুরো সময় থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।এছাড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা সমন্বয়ের ঘোষণা থাকতে পারে। তবে বেতনভাতা বাড়ানোর কাজ শুরু হবে বাজেটের পর। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেতন বাড়তে পারে, যা কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে পহেলা জুলাই থেকে। কিন্তু এরপরও সাধারণ মানুষের বড় অংশই মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে আরও পিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এখনো সহনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি নিত্যপণ্যের দাম।আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় চাপ আইএমএফ-এর ঋণ শর্ত। এই শর্ত পালন করতে গিয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় করতে হবে জনগণের কাছ থেকে। এজন্য চালু করা হবে সর্বজনীন কর-ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কমপক্ষে দুই হাজার টাকা কর প্রত্যেককে গুনতে হবে। স্বাভাবিক জীবনযাপনে ৪৪ ধরনের সেবা পেতে এই কর দিতে হবে। সরকারের আয় বাড়াতে করপোরেট কর কমানো হচ্ছে না এবার।তবে মূল্যস্ফীতি থেকে লাঘব দিতে ব্যক্তি আয়করসীমা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্লট, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার খরচ বাড়বে।শঙ্কার জায়গা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে এপ্রিল-এই সময়ে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। এই নেতিবাচক ধারার মধ্যে আগামী অর্থবছরে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বেশি। কিন্তু কোনো কারণে সেটি আদায় সম্ভব না হলে সরকারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। আর ঋণ বেশি নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম হবে। কারণ, ঋণপ্রবাহ কমবে বেসরকারি খাতে। এতে বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর।এদিকে রাজস্ব আয়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বাজেটে করহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যব্যবহার্যসামগ্রী যেমন: প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, টয়লেট টিসু, কলম, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে।এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে কাজুবাদাম, খেজুরের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া গৃহস্থালিসামগ্রীর ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালিসামগ্রী উৎপাদনে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।একই হারে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালিসামগ্রী ও তৈজসপত্রের (হাঁড়িপাতিল, থালাবাসন) ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিসু, ন্যাপকিন টিসু, ফেসিয়াল টিসু/পকেট টিসু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিসু পেপারের দাম বাড়তে পারে।শহরে বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত বাড়িতে খাবার গরম করতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে থাকে। শুল্ক ফাঁকি রোধে বাজেটে সব ধরনের ওভেন আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়াচ্ছে, মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে।সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাজারে সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে।সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। এটি অর্জন কঠিন হবে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। পার্শ্ববর্তী নেপালের চেয়েও কম আদায় হয়।অথচ নেপালের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়েও কম। আইএমএফ বলেছে, প্রতি অর্থবছরে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ কর আহরণ বাড়াতে হবে। এজন্য আমাদেরও চেষ্টা থাকতে হবে কর আদায় বৃদ্ধির জন্য।এদিকে আইএমএফ-এর ঋণের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম নেবে সরকার। চলতি অর্থবছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আগামী বছর এ খাত থেকে নেওয়া হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা।যদিও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কৃচ্ছ সাধনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে আকাশপথে প্রথম শ্রেণিতে বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ হচ্ছে।এছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সব ধরনের ভাতা ও আওতা বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ থাকছে সম্ভাব্য ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে নতুন হচ্ছে-জুলাই থেকে সীমিত আকারে সর্বজনীন পেনশন চালু করা হবে। প্রবাসী, চাকরিজীবী, সাধারণ মানুষসহ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে সীমিত আকারে তা করা হবে-এমনটি ঘোষণা থাকবে বাজেটে।বর্তমানে বৈশ্বিক সংকট চালমান। এর প্রভাবে একধরনের সংকট বিরাজ করছে অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও। এর আগে গেছে কোভিড-১৯ মহামারি। ফলে অর্থনীতি থেকে পুরোপুরি কালো মেঘ কাটেনি। এরপরও আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জিডিপির প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে-এমনটি ধরে নিচ্ছে অর্থ বিভাগ।মোট ব্যয় : ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি এবং মূলধনি ব্যয় ৩৯ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি, বিদেশি ঋণ পরিশোধে ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি, অভ্যন্তরীণ ঋণ শোধে ৮২ হাজার কোটি, ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ হাজার ৪২০ কোটি, বিশেষ প্রকল্পে ৭ হাজার ৯৮৬ কোটি, কাবিখাতে ২ হাজার ৮২৮ কোটি, স্কিমে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ আছে ৫৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।আয় খাত : মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৫০ হাজার এবং বৈদেশিক অনুদান ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। মোট করের মধ্যে এনবিআর কর হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি এবং নন এনবিআর ২০ হাজার কোটি টাকা।ঘাটতি : মোট ঘাটতি (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি এবং (অনুদান ছাড়া) ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। এই অভ্যন্তীরণ খাতের ঋণ আসবে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৮ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা।জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আইএমএফ-এর ঋণের অনেকগুলো সংস্কার কর্মসূচির শর্ত বাংলাদেশকে মানতে হচ্ছে। কিন্তু এসব সংস্কারের কথা বিশেষজ্ঞমহল অনেকদিন থেকেই বলে আসছে। গত কয়েকটি বাজেটেও সরকার এসব সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। শর্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি রাজস্ব আহরণের প্রস্তাব বাজেটের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হতে পারে।এজন্য শক্ত উদ্যোগ নিলে বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব। আর এনবিআরকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে। সরকার ও সমাজের প্রতিটি অংশের তাদের কাছে প্রাপ্য কর ও ফি পরিশোধে পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। কর ও ভ্যাট সম্পর্কিত সব বকেয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভালো আইনজীবী নিয়োগ এবং অনানুষ্ঠানিক মামলা নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।এবার বাজেটকে অধিকতর অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd-এ বাজেটের সব তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ জুন ২০২৩


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে : গণতন্ত্র মঞ্চ

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে : গণতন্ত্র মঞ্চ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও আরেকটি এক তরফা ও তামাশার নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে, এটা বুঝতে পেরে ৭ মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের। তাদের দাবি, নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।রোববার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে পদযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জোটের নেতারা এসব কথা বলে।পদযাত্রায় বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, খবর বেরিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নাকি একই নীতি ঘোষণা করবে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলো নাকি একই নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে।২০১৪ সাল থেকে এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থেকে দেশের মানুষের মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছে- এমন মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, একটা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশকে তারা আজকে সোমালীয় ও নাইজেরিয়ার পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মুখে যে উন্নয়নের কথা বলতেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জেনে গেছে-২০১৪ সালে তারা কীভাবে একতরফা ও জালিয়াতির নির্বাচন করেছে। ২০১৮ সালে তারা দিনের ভোট রাতে করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে অপমান করেছে। তারা কতটুকু নির্লজ্জ যে নিজেদের আবার গণতান্ত্রিক সরকার দাবি করে।নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতোমধ্যে নামজাদা, লাঠিয়াল সংসদ সদস্যের ভিসা যে রিজেক্ট হয়েছে তার খবরও পাওয়া গেছে। তলে-তলে কাজটা শুরু হয়েছে।বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আওয়ামী লীগ সরকার নষ্ট করে দিয়েছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, বহু বছর ধরে বলছি-ভোট চুরি করে, জালিয়াতি করে, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, অত্যাচার-গুম করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। অতএব, সময় এসেছে, এখন আপনাকে যেতে হবে। আপনি বিদ্যুৎ উৎসব করেছে, এখন পায়রা বন্দর বন্ধ হতে চলছে, ডলারের সংকটের কারণে কয়লা আনতে পারে না। জিনিসপত্র আমদানি করতে পারে না।তিনি আরও বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করেছি, বন্ধ করছি না। আমাদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা করে, লোভ ও ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। তবে, আমরা ভয় পাই না, লড়াই শেষ পর্যন্ত করবো। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে। আমরা রাতের বেলায় কারও সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করি না।গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন যে ভিসানীতি ঘোষণা করেছে এটা নাকি অন্যায় করেছে, আওয়ামী লীগের নেতারা এমনটাই বলছে। কিন্তু মানুষের ট্যাক্সের টাকায় সরকারে বসে লুটপাট করে আপনারা কেন বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেন। আপনারা কেন র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে মানুষকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেন, মেরে ফেলেন, গুম করে ফেলেন। তার জবাব তো আপনারা দেন না। বাংলাদেশের মানুষ মাথা ঠুকে-ঠুকে তার জবাব চেয়েছে, সরকার বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে।আওয়ামী লীগের পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে দাবি করে সাকি বলেন, মানুষ পরিষ্কার বুঝতে পারছে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো একটা তামাশার নির্বাচন করতে চায় তারা, কিন্তু জনগণ হতে দেবে না।বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি উল্লেখ করে সাকি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। কেবল গদি রক্ষার জন্য। দেশকে নিলামে তুলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৮ মে ২০২৩


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ভাবনায় ফেলেছে আওয়ামী লীগকে

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ভাবনায় ফেলেছে আওয়ামী লীগকে

যদিও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এবং মন্ত্রীরা একই সুরে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতির বিধিনিষেধ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দলের জন্যই প্রযোজ্য এবং একটা সতর্কবার্তা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার বিচলিত নয়। কিন্তু দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টাতে সরকার ও তাঁদের দলের ভেতরে কিছু প্রশ্ন আলোচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির প্রভাব কী হতে পারে, সেটি ভাবনায় ফেলেছে আওয়ামী লীগকে।বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের বিধিনিষেধের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে। কিন্তু তা চিহ্নিত করা হবে কীভাবে, এটি বড় প্রশ্ন আওয়ামী লীগ ও সরকারের কাছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চিহ্নিত করার কথা বলেছে। তাতে আওয়ামী লীগ ও সরকার সন্তুষ্ট হতে পারছে না। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির প্রভাব কী হতে পারে অথবা প্রভাব কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে—এটিও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে।বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নীতির বিধিনিষেধের বিষয়টি ব্যাপক অর্থে বলা হয়েছে। কে এর আওতায় পড়ে যাবে, সেটা যেমন পরিষ্কার নয় সরকারের কাছে; একই সঙ্গে কাউকে সুনির্দিষ্ট করে নিষেধাজ্ঞা যে দেওয়া হয়নি, সেটাকে একধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীনেরা। তাঁরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে সব রাজনৈতিক দলের জন্যই বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা তাঁদের আলোচনায় এসেছে। যার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে মন্ত্রীদের বক্তব্যে।তবে ব্যাখ্যা যা-ই দেওয়া হোক না কেন, বিষয়টা আওয়ামী লীগ ও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে। তা দলের নেতাদের কেউ কেউ স্বীকার করেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রভাব দেশের ভেতরেও পড়তে পারে। বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে বিভিন্ন সময় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের আন্দোলন জোরদার করার কথা বলছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কতটা কঠোর হতে পারবে, সেটি ক্ষমতাসীনদের একটি চিন্তার বিষয়। প্রশাসনের ওপর কতটা কর্তৃত্ব রাখা যাবে—এই প্রশ্নেও আলোচনা আছে। প্রশাসনের ভেতরেও এ বিষয় নিয়ে কিছু আলোচনা রয়েছে। অনেকের মধ্যে দুশ্চিন্তাও আছে।আওয়ামী লীগ ও সরকারও যে একটা চাপের মধ্যে পড়েছে, দলটি সেখানে মন্দের ভালো কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে বলে মনে হয়। কারণ, দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে সরকারের ওপর একটা চাপ তৈরির চেষ্টা করছিল। তারা বলে আসছিল, আবারও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষিত ভিসা নীতি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি বিধিনিষেধের সতর্কবার্তা।বিভিন্ন ব্যাখ্যা যে তুলে ধরা হচ্ছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে, তাতে বলা হচ্ছে, বিরোধী দল বিএনপিকে এনে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। এমন কোনো বাধ্যবাধকতার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির শর্তে নেই।এ ছাড়া আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে আসছে। এখন বিএনপির এ ধরনের অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ, কেউ নির্বাচন প্রতিহত করতে গেলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির আওতায় পড়বে। বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিও এখন দুর্বল হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের পক্ষে এটিকেও ব্যাখ্যা হিসেবে দেখাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলার চেষ্টা করছেন, এখন বিএনপির নির্দলীয় সরকারের দাবি ও নির্বাচন প্রতিহত করার অবস্থানের যৌক্তিকতা থাকবে না। কিন্তু টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের ওপরই নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার দায়িত্ব বেশি, সেটিও দলটির নেতাদের অনেকে স্বীকার করেন। এরপরও তাঁরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণায় রাজনৈতিক দিক থেকে আওয়ামী লীগের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণায় বিচলিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি সবার জন্য সতর্কবার্তা। এই সতর্কবার্তা সব দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছি।’অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন যে পদক্ষেপ নিয়েছে, এর পেছনে দেশের কোনো শক্তি বা পক্ষ আছে কি না—এই প্রশ্নও রয়েছে আওয়ামী লীগের। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, পেছনে কারও ইন্ধন বা এর সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি না, সেটা সরকার খতিয়ে দেখবে।এ ছাড়া আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র এই ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও গণতন্ত্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাও বাংলাদেশ পর্যবেক্ষণ করবে।তবে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মে নাইজেরিয়ার জন্য ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। এর আগে সোমালিয়া, উগান্ডা, নিকারাগুয়া ও বেলারুশ—এই চারটি দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ মে ২০২৩


গাজীপুরের নির্বাচনের ২৫০ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা

গাজীপুরের নির্বাচনের ২৫০ কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা

গাজীপুর সিটির নির্বাচনে ৪৮০ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফল ঘোষণা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার পর এ ফল জানানো হয়। এতে দেখা যায়, নৌকা মার্কার প্রার্থী আজমত উল্লা খান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২২৫ ভোট। আর টেবিল ঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ ভোট। ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের কর্মী–সমর্থকদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস। গাজীপুর জেলা পরিষদ ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনের বাইরে। আজ বৃহস্পতিবার রাতেফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রের সামনে প্রার্থীদের কর্মী–সমর্থকদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস। গাজীপুর জেলা পরিষদের ভবনের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে এ নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুর সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন পুরুষ, ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন নারী ও ১৮ জন হিজড়া। এই সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড আছে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি, মোট ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৪৯৭টি।নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান, টেবিলঘড়ি প্রতীকে জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা), লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির মো. রাজু আহাম্মেদ, মাছ প্রতীকে গণফ্রন্টের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে ঘোড়া প্রতীকে মো. হারুন-অর-রশীদ ও হাতি প্রতীকে সরকার শাহনূর ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৫ মে ২০২৩


গাজীপুরের নির্বাচন হবে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন - ইসি আলমগীর

গাজীপুরের নির্বাচন হবে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন - ইসি আলমগীর

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, উপমহাদেশে যত ভোট হয়, সেসব ভোটের চেয়ে গাজীপুরের ভোট সর্বশ্রেষ্ঠ হবে। গাজীপুরের ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। ভোটে অনিয়ম হলে গাইবান্ধার চেয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। ইসি আলমগীর বলেন, নির্বাচন চলাকালীন অনিয়ম পেলে ইসি অথবা রিটার্নিং কর্মকর্তা অথবা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিতে পারেন। আগে আইনে ইসির যে সুযোগ-সুবিধা ছিল, তা এখনও আছে। আগের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে আরও কিছু যুক্ত করে আমরা আরপিও সংশোধনের জন্য পাঠিয়েছিলাম। আরপিও সংশোধনের বিষয়টি এখনও আমাদের কাছে আসেনি। আমরা হাতে পেলে বিস্তারিত জানাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২২ মে ২০২৩


আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করে : শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বুধবার দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি তৃণমূল থেকে দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, ভোট চোর ও ডাকাতেরা এখন দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছে। শেখ হাসিনার ৪২ বছর আগে দেশে ফেরা উদ্‌যাপন উপলক্ষে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের তাঁকে দেওয়া ফুলেল শুভেচ্ছার জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তৃণমূল থেকে প্রতিটি সংগঠনকে পুনর্গঠন করুন। কারণ, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করে। ’প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং এই দলের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি অর্জন এসেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন এবং এটি জনগণের জন্য কাজ করবে, এটাই আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার। ’ বাকি দলগুলোকে লুটেরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কখনোই জনগণের কল্যাণে কাজ করে না। তাই সন্ত্রাসী, খুনি বা যুদ্ধাপরাধীদের দল যাতে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে ভোট চোর ও ডাকাতেরা এখন দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের তাদের (ভোট চোরদের) কাছ থেকে গণতন্ত্রের পাঠ শুনতে হবে। ’প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রবর্তন ও ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার মাধ্যমে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশের মানুষের এই বিশ্বাস ও আস্থাই আমাদের একমাত্র শক্তি। এটা ছাড়া আমাদের আর কোনো শক্তি নেই। ’আওয়ামী লীগের সভাপতি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ’সমুদ্রবন্দর ও অবকাঠামোতে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস ইউএই রাষ্ট্রদূতেরসংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নতুন রাষ্ট্রদূত আলী আবদুল্লাহ খাসেফ আল হামুদি বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে উদ্ধৃত করে জানান, পারস্পরিক স্বার্থে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অবকাঠামো এবং সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানকালে তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বকে তাঁর শুভেচ্ছা জানান।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও মুখ্য সচিব মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৮ মে ২০২৩


কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে এগিয়ে আসছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত বলবত রাখা হয়েছে।আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আজ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেওয়ার কথা জানানো হয়।মন্ত্রণালয়ের এ সভার পর বেলা আড়াইটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ১৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে আট নম্বর মহাবিপৎসংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় মোখা আতঙ্কে সুন্দরবনে মাছ শিকার করতে যাওয়া জেলেরা নৌকা নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেছেন। আজ সকালে কয়রার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন সুতিয়া বাজার লঞ্চঘাটের পাশেআবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সকালে দেওয়া ১৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি ঝরাবে। দেশের তিন বিভাগ—চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে এ বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস হতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলে। আজ সেই সংকেত পাল্টানো হলো।কক্সবাজারের টেকনাফের খায়ূকখালী খালে নিরাপদ আশ্রয়ে বিপুলসংখ্যক মাছ ধরার ট্রলার। শুক্রবার বিকেলেআবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ভোলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৩ মে ২০২৩


সর্বাধিক পঠিত

রোববার বাংলাদেশের কক্সবাজার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'মোখা'

রোববার বাংলাদেশের কক্সবাজার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'মোখা'

আগামী রোববার বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চকপিউ শহরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় 'মোখা'। এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটেরলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের তথ্য মতে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সামুদ্রিক ঝড়ের ক্ষেত্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটারের বেশি হলে একে সাইক্লোন বলা হবে। বাতাসের গতি এর কম হলে সেটাকে বলা হয় নিম্নচাপ। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সাইক্লোন সৃষ্টি হয়নি। এটি এখনো গভীর নিম্নচাপ অবস্থায় আছে। শক্তি সঞ্চয় করে এটি সাইক্লোনে পরিণত হবে। তখনই এর নাম হবে 'মোখা'।ঘূর্ণিঝড়টির নাম কেন 'মোখা', তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আছে। এই নামটি দিয়েছে ইয়েমেন। মোখা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে একটি বন্দর শহর। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এটাই ছিল ইয়েমেনের প্রধান বন্দর শহর। কফি বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল এই বন্দর।উত্তর ভারত মহাসাগর তথা বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে এই অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড মেটেরলজিক্যাল অর্গানাইজেশন প্যানেল সদস্য দেশগুলো ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এই নামগুলো গ্রহণ করেছে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এই দেশগুলোর নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী তৈরি তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ হয়।তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে 'বিপর্যয়'। এই নামটি বাংলাদেশের দেওয়া। এর পরবর্তী পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে যথাক্রমে তেজ (ভারত), হামুন (ইরান), মিধিলি (মালদ্বীপ), মিগজাউম (মিয়ানমার), রিমাল (ওমান)।ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রচলন হয় ২০০০ সালে। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের কারণ সম্পর্কে ওয়ার্ল্ড মেটেরলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, একটি ঘূর্ণিঝড় এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই একই অঞ্চলে আরও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়। এ কারণে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হলে সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ মে ২০২৩


বঙ্গোসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি রাতের মধ্যে ঘুর্ণঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা

বঙ্গোসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি রাতের মধ্যে ঘুর্ণঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা

দক্ষিণ বঙ্গোসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ১০ মে রাতের মধ্যে এটি ঘুর্ণঝড়ে রূপ নেয়া সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর প্রথমে উত্তর-পশ্চিম দিকে, এরপর উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে মিয়ানমার উপকূলে পৌঁছতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে মোখা (Mocha)।ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানকারী গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগরের এ অংশ উত্তাল হয়ে পড়ছে।তবে বাংলাদেশ উপকূল এবং সবগুলো সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি, একারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে আপাতত ১ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সাগরে অবস্থানকারী মাছ ধরা নৌকা-ট্রলারকে গভীর সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।এর আগে, মঙ্গলবার (৮ মে) দিনগত রাতে আন্দামান সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানকারী লঘুচাপটি আরও তীব্র হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। সাগরে এমন বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের আকাশ হয়ে পড়েছে মেঘ শূণ্য। ফলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে তাপ প্রবাহ।গেল ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪১.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১০ মে ২০২৩


সার কারখানার কর্মকর্তার স্ত্রীর নামেই ৯১ গাড়ি

সার কারখানার কর্মকর্তার স্ত্রীর নামেই ৯১ গাড়ি

এইচএসসি পাস করে ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নিয়েছিলেন। এরপর ১৪ বছরের চাকরিজীবনে তিনি সর্বশেষ ওই কারখানার সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ছিলেন। এই সময়ে ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।এই ব্যক্তি হলেন খোন্দকার মুহম্মদ ইকবাল (৪২)। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার কারখানা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজারে চাকরি করতেন তিনি। অর্থ আত্মসাতের কারণে চার বছর আগে ওই কারখানা থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ইকবাল তাঁর স্ত্রীর নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি খোলেন। কোম্পানি দুটির নামে বেশ কিছু ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে ইকবাল শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্প থেকে ৩৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মামলায় বলা হয়েছে। বিসিআইসির কর্মকর্তা খোন্দকার ইকবালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও অনেক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। কারও একার পক্ষে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া বিলের মাধ্যমে এত কোটি টাকা বের করে নেওয়া সম্ভব নয়। সিআইডির দাবি, তারা গত বছরের জুলাই থেকে ১০ মাস অনুসন্ধান করে এই দম্পতির অপরাধলব্ধ আয়ের তথ্য পেয়েছে। এর ভিত্তিতে গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আজাদ রহমান গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, সিআইডির অনুসন্ধানে খোন্দকার ইকবাল ও তাঁর স্ত্রীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।সিআইডি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুনে মুহম্মদ ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা আক্তারকে (৪০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে র‌্যাব। পরে র‌্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ইকবাল ও হালিমা দম্পতির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে ২৬ এপ্রিল তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) সোহানুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, খোন্দকার মুহম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ভুয়া বিল ও রসিদ তৈরি করা হয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান খোলা হয় ইকবালের স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে। এই দম্পতির মালিকানায় থাকা মাইক্রোবাস, কার, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন টিআই ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে রেন্ট-এ–কারের ব্যবসা করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের ঢাকার শান্তিনগরে কয়েকটি ফ্ল্যাট ও ময়মনসিংহে জমি রয়েছে। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ওয়ান পয়েন্ট ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামের তিনটি চেইন শপ রয়েছে।সিআইডির অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও মামলার বাদী এসআই সোহানুর রহমানমামলার নথিপত্র অনুযায়ী, খোন্দকার ইকবালের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। তিনি সর্বশেষ ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ছিলেন। সিআইডি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন কোম্পানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছেন মূলত ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে। বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আ ন ম শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খোন্দকার মুহম্মদ ইকবালকে চাকরিচ্যুত করে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। পরে দুদক মামলাও করে। ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে কারাগারে। জানা গেছে, এই দম্পতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ১৬টি মামলা করেছে দুদক। সিলেটে হওয়া মামলাগুলো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। সিলেটের বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে কর্মরত দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) লুৎফুল কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, শাহজালাল ফার্টিলাইজার সার কারখানায় ভুয়া বিল জমা দিয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সিলেটের আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী কারাগারে রয়েছেন। সিআইডির মামলায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইকবাল ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে।সিআইডির অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও মামলার বাদী এসআই সোহানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এই দম্পতির মালিকানায় থাকা মাইক্রোবাস, কার, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন টিআই ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে রেন্ট-এ–কারের ব্যবসা করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের ঢাকার শান্তিনগরে কয়েকটি ফ্ল্যাট ও ময়মনসিংহে জমি রয়েছে। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ওয়ান পয়েন্ট ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামের তিনটি চেইন শপ রয়েছে।সরেজমিনে সিদ্ধেশ্বরীতে ওয়ান পয়েন্ট ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামে দুটি দোকানের খোঁজ পেয়েছেন এই প্রতিনিধি। সেখানে গতকাল শনিবার দুপুরে কথা হয় স্টোরের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে। তিনি নিজের নাম বলেছেন সাব্বির হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিন বছর আগে খোন্দকার ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় তিনটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খুলে ব্যবসা শুরু করেন। একটি দোকান মাস চারেক আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে ভুয়া বিল দিয়ে সার কারখানার টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে কোনো অফিস নেই বলে জানান সাব্বির হোসেন। আর তাঁর মালিকদের গাড়িগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া রয়েছে বলে জানান তিনি। গাড়ির মধ্যে রয়েছে কোস্টার, মাইক্রোবাস, কার ও পিকআপ। তবে গাড়ির সংখ্যা কতটি, সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সাব্বির হোসেন।সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে থেকে একজন ব্যক্তি পাঁচ বছরে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুল অঙ্কের টাকা ভুয়া বিলের মাধ্যমে কীভাবে বের করে নিয়েছেন, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বিসিআইসি ও সার কারখানার আরও কেউ যুক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তদন্তে কিছু আসেনি। এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সচিব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, বিসিআইসির কর্মকর্তা খোন্দকার ইকবালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও অনেক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। কারও একার পক্ষে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া বিলের মাধ্যমে এত কোটি টাকা বের করে নেওয়া সম্ভব নয়।সূত্র- প্রথম আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৭ মে ২০২৩


বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি (২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের এ ঋণচুক্তি হয়। ঋণচুক্তি সইয়ের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস উপস্থিত ছিলেন।উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো—রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট (আরআইভিইআর)।বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি)।অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১।ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি)।সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি)।প্রথম প্রকল্প: রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্টটি ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ‘ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নয়নে সহায়তা করবে।দ্বিতীয় প্রকল্প: বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি বাংলাদেশে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাসহ সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।তৃতীয় প্রকল্প: অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১ হলো ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার (৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বাড়াতে ঢাকাকে সাহায্য করবে।চতুর্থ প্রকল্প: ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) প্রকল্পটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে।পঞ্চম প্রকল্প: সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প খাতকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ ও জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তরে সহায়তা করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০২ মে ২০২৩


মহান মে দিবস আজ

মহান মে দিবস আজ

আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে 'মে দিবস' হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় 'শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি'।মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, 'আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প ও শ্রমবান্ধব বর্তমান সরকার শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণসাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।'তিনি বলেন, '২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতাসহ সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।''মহান মে দিবস-২০২৩' উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের মেহনতি মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে 'বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮' প্রণয়ন করা হয়েছে।'

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ মে ২০২৩


জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কৌশল : ইসি আলমগীর

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কৌশল : ইসি আলমগীর

নির্বাচন কমিশনের পরীক্ষা নিতে বিএনপিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।তিনি বলেন, আমরা (নির্বাচন কমিশন) এখন পর্যন্ত ভালো কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও ভালো কাজ করব। নির্বাচনে এসে আমাদের পরীক্ষা নিতে আপনাদের (বিএনপি) আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন না। পরীক্ষা না নিয়ে আপনারা কীভাবে জানলেন আমরা ফেল করব? আমরা সবসময় পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত।রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মো. আলমগীর।জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই বলেনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা নেই।তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ভালো কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমাদের সবসময় আহ্বান থাকবে (বিএনপির প্রতি), নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন, পরীক্ষা নিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ এপ্রিল ২০২৩


অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত রাজধানীর নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা

অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত রাজধানীর নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম। এছাড়াও আগুনের কারণে শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে আশেপাশের চাঁদনি চক ও গাউছিয়া মার্কেটও বন্ধ রয়েছে।শনিবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে রাজধানী নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণের তথ্য জানায়। তবে এখনও আগুন নেভেনি। পুরোপুরি আগুন নেভাতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৫ এপ্রিল ২০২৩


অগ্নিকাণ্ডে ‘বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস’ আছে কি না খতিয়ে দেখতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অগ্নিকাণ্ডে ‘বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস’ আছে কি না খতিয়ে দেখতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর পেছনে ‘বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস’ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা (বিএনপি-জামায়াত) আগুনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ভিন্নপথ অবলম্বন করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’ সেই সঙ্গে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোয় নজরদারি জোরদার করতে বলেন।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ উদ্যোগে (নিজেদের প্রতিষ্ঠান) পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’শেখ হাসিনা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তখন ঘটনাস্থলে অপ্রয়োজনীয় জমায়েত হওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে কোনো বাধার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৫ এপ্রিল ২০২৩


আগুন লাগার পেছনে কোনো নাশকতা রয়েছে কি না  খতিয়ে দেখা উচিত : মইন উদ্দিন

আগুন লাগার পেছনে কোনো নাশকতা রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা উচিত : মইন উদ্দিন

একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এসব অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। বারবার এসব ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতা রয়েছে কি না তা গোয়েন্দা সংস্থাকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন।শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে নিউমার্কেটে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি। একের পর এক ঘটনা ঘটছে। আমি গোয়েন্দা সংস্থাকে আহ্বান করবো কোনো নাশকতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য।’তিনি বলেন, নিউমার্কেটের তিন তলায় আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ঢাকা ওয়াসার পানিবাহিত গাড়িসহ বিজিবির সদস্যরা কাজ করছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আগুন কেন লেগেছে তা আমরা এখনও জানি না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি কিন্তু নির্বাপণ করতে পারিনি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৫ এপ্রিল ২০২৩


পাঁচ সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন পেলেন যারা

পাঁচ সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন পেলেন যারা

পাঁচ সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। খুলনা সিটি করপোরেশনের জন্য তালুকদার আবদুল খালেক, সিলেটে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটন, বরিশালে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান।শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তাদেরকে চূড়ান্ত করা হয়। গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ওবায়দুল কাদের।এর আগে সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্বে করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, কাজী জাফর উল্যাহ, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. রাশিদুল আলম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৫ মে। খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ১২ জুন এবং রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোট হবে ২১ জুন। এসব ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে।এর আগে গত ৯ এপ্রিল থেকে বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাঁচ সিটি করপোরেশন ও পাঁচ পৌরসভার মেয়র এবং তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৫ এপ্রিল ২০২৩


আগামীকাল শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা

আগামীকাল শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা

সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আলতাফুন নেছা মায়া।বুধবার (১২ এপ্রিল) ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর সেখানে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার জানানোর জন্য রাখা হবে।বর্তমানে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রয়েছে বলেও জানান তিনি।আলতাফুন নেছা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম জানাজা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।তিনি বলেন, শ্রদ্ধা জানানো জন্য ১৪ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ১০টায় সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ রাখা হবে। পরে জুমার নামাজের পর দ্বিতীয় জানাজা হবে গণবিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ এপ্রিল ২০২৩


ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই। আজ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৮১ বছর বয়সী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। কিছু দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগেও ভুগছিলেন। গত বুধবার তাঁকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রধান কিডনি বিশেষজ্ঞ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী আজ রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন ভাস্কুলার সার্জন। তিনি মূলত জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ। ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতি দেশকে ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে, ওই নীতি প্রণয়নের অন্যতম কারিগর ছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বহির্বিশ্বে তাঁর পরিচয় বিকল্প ধারার স্বাস্থ্য আন্দোলনের সমর্থক ও সংগঠক হিসেবে।জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্ম ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কোয়েপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা হুমায়ন মোর্শেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মা হাছিনা বেগম চৌধুরী ছিলেন গৃহিনী। মা–বাবার দশ সন্তানের মধ্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সবার বড়।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ এপ্রিল ২০২৩