মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা বাগানে পাহাড়ের সুরঙ্গ থেকে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটিচাপায় চার চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুর ১টায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত চারজনই লাখাইছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক।শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আব্দুল কাদির ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘর সংস্কারের জন্য মাটি সংগ্ৰহ করতে গিয়েছিল তারা। টিলা অনেক উঁচু হওয়ায় ও নরম থাকায় ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই চার নারীর মৃত্যু হয়। নিহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ আগস্ট ২০২২
অধিক মুনাফার আশায় কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম বাড়িয়েছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার কঠোরভাবে বিষয়টি তদারকি করছে।বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সাথে যুক্ত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানবতার ধর্মে বিশ্বাস করে। সব মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তবে কারো অনুভূতিতে আঘাত দেয়া ঠিক নয়। হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশ্বাসীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরই জন্ম তিথি স্মরণে জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নানা সময়ে সহিংসতার কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের মতো করে ধর্ম পালন করবে সবাই। তবে কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোন কথা বলা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।এদিকে, সম্প্রতি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিক মুনাফার আশায় কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম বাড়িয়েছে। সরকার কঠোরভাবে বিষয়টি তদারকি করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৮ আগস্ট ২০২২
ঢাকা সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের এশিয়া-প্যাসিফিক শাখার প্রধান ররি মুনগোবেনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।আজ বুধবার দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ররি মুনগোবেনের সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করে।পরে প্রতিনিধিদলের প্রধান আসাদুজ্জামান আসাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি কেমন, সেটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের বক্তব্য তাঁকে বলেছি। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আমরা ব্যাখ্যা করেছি, যেটা বিভিন্ন সময়ে আপনারা রিপোর্ট করেছেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে।’ররি মুনগোবেন কী বলেছেন জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। উনি তো ফিট ব্যাক দেবেন না আমাদের। আপনাদের সঙ্গে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সংবাদ সম্মেলন আছে বিকেলে, সেখানে হয়তো বলবেন।’প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, তাবিথ আউয়াল ও মানবাধিকারবিষয়ক কমিটির সদস্য আবরার ইলিয়াস।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৭ আগস্ট ২০২২
যারা খুনিদের আশ্রয় দেয়, তারাই মানবতার সবক শেখায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার বাবা-মা ও ভাইদের যারা হত্যা করেছে সেই খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে আজ মানবাধিকারের কথা বলা বড় বড় দেশগুলো।মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজ চারদিক থেকে মানবাধিকারের প্রশ্ন আসে। মানবাধিকারের কথা বলা হয়। আমাদের সরকারকে মানবাধিকারের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। যারা এই প্রশ্ন করে তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আমাদের মানবাধিকার, ১৫ আগস্ট আমরা যারা আপনজন হারিয়েছি তাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমরা বাবা-মা হারিয়েছি। আমরা মামলা করতে পারব না। বিচার চাইতে পারব না। কেন? আমরা দেশের নাগরিক না? আমি, আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। বেঁচে গিয়েছিলাম ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাত থেকে। এই বাঁচা কত যন্ত্রণার বাঁচা, যারা বাঁচে তারা জানে।তিনি বলেন, আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিলো। ৯৬ সালে যদি সরকারে আসতে না পারতাম, যদি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে না পারতাম, এই হত্যার বিচার কোনো দিন হতো না। বারবার বাধা এসেছে। এমনকি বক্তৃতা দিয়ে বিচার চাইতে গিয়েও বাধা পেয়েছি। যে এই কথা বললে নাকি কোনো দিন ক্ষমতায় যেতে পারব না। এ রকম কথাও আমাকে শুনতে হয়েছে। আমি বাধা মানিনি। আমি দাবিতে সোচ্চার হয়েছি। দেশে-বিদেশে জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি।সরকার প্রধান বলেন, সর্ব প্রথম এই হত্যার প্রতিবাদ করে বক্তব্য দিয়েছে রেহানা। ৭৯ সালে সুইডেনে। এরপর আমি ৮০ সালে বিদেশে গেছি। একটা কমিশন গঠন করেছি, চেষ্টা করেছি আন্তর্জাতিকভাবে। তখন তো দেশে আসতে পারিনি, আমাকে আসতে দেওয়া হবে না। ৮১ সালে দেশে আসার পর জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি। অপপ্রচার চালানো হয়েছে আমার বাবার নামে, ভাইয়ের নামে, মায়ের নামে- মিথ্যা অপপ্রচার। কোথায় সেগুলো? কত রকমের মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তারপরও যখন দেখে যে না বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা যায় না।তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩২ নম্বরে লাশগুলো তো পড়ে ছিল। কত স্লোগান, বঙ্গবন্ধু তুমি আছো যেখানে, আমরা সেখানে। অনেক স্লোগানই তো ছিল। কোথায় ছিল সেই মানুষগুলো? একটি মানুষও ছিল না সাহস করে এগিয়ে আসার? একটি মানুষও ছিল না প্রতিবাদ করার? কেন করতে পারেনি? এত বড় সংগঠন, এত সমর্থক, এত লোক। কেউ তো একটা কথাও বলার সাহস পায়নি। ১৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট ওই লাশগুলো পড়ে ছিল। ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে গেল টুঙ্গিপাড়া। কারণ দুর্গম পথ। ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে, কেউ যেতে পারবে না। তাই সেখানে নিয়ে মা-বাবার কবরের পাশে মাটি দিয়ে আসে। সেখানকার মৌলভী সাহেব আপত্তি করেছিল যে গোসল দেব, কাফন-দাফন…।প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু নিয়ে যাননি (বঙ্গবন্ধু), শুধু দিয়ে গেছেন। একটা দেশ দিয়ে গেছেন; একটা জাতি দিয়ে গেছেন; পরিচয় দিয়ে গেছেন; আত্মপরিচয় দিয়ে গেছেন। কিছুই নিয়ে যাননি বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে। বাংলাদেশের গরিব মানুষকে যে রিলিফের কাপড় তিনি দিতে পারতেন সেই রিলিফের কাপড়ের পাড় ছিঁড়ে সে কাপড় দিয়ে তাকে কাফন দেওয়া হয়েছিল। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে কিছুই নিয়ে যায়নি। ওই ১৬ তারিখে সমস্ত লাশ নিয়ে বনানীতে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।তিনি বলেন, মুসলমান হিসেবে যে দাবি থাকে জানাজা পড়ার সেটাও তো পড়েনি। একটু কাফনের কাপড়, সেটাও দেয়নি। পঁচাত্তরের ঘাতকরা হত্যার পর বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ইসলামিক কোনো বিধি তারা মানেনি। আমার একটা প্রশ্ন, আমাদের নেতারাও তো এখানে আছেন। জাতির পিতা তো অনেককে ফোনও করেছিলেন। কী করেছিলেন তারা? বেঁচে থাকতে সবাই থাকে। মরে গেলে যে কেউ থাকে না তার জীবন্ত প্রমাণ এটা। এ জন্য আমি কিছু আশা করি না। সব সহ্য করে নীলকণ্ঠ হয়ে শুধু অপেক্ষা করেছি কবে ক্ষমতায় যেতে পারব। আর এই দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। তাহলেই এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিচারের বাণী তো নিভৃতে কাঁদে। আমি ফিরে এসেও তো বিচার করতে পারিনি। আমি ৮১ সালে দেশে এসেছি, ৯৬ সালে ক্ষমতায় গিয়েছি। এই সময়ে কতবার ওই হাইকোর্টে গিয়েছি, বক্তৃতা দিয়েছি। বিচারিক আদালতে গেছি। আমাদের তো মামলা করারও অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।সরকার প্রধান বলেন, জজ সাহেব গোলাম রসূল সাহসী ছিলেন। কোর্টে গিয়েছিলেন এবং বিচারের রায় দিয়ে খুনিদের ফাঁসির হুকুম দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ২০০১ এ যখন আসে, সব বিচার কার্য বন্ধ। এরপর আমরা যখন ক্ষমতায় আসলাম ২০০৯ সালে তখন এই বিচার কাজ শুরু করি। হাইকোর্টে আমরা আপিল করি। বিচারকদের তালিকায় লেখা আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক। কোর্টে গেলে তারা বিব্রতবোধ করেন। মানে এই বিচারের রায় তারা দিতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতি ছিলেন তোফাজ্জল সাহেব। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার রায়ে এই খুনিদের ফাঁসি হয় যেটা আমরা কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছি।তিনি বলেন, আজকে যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা তো খুনিদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই খুনি রাশেদ ছিল মিলিটারি অর্ডারে যে অপারেশন হয়, তার কমান্ডিং অফিসার। রাশেদ ও শাহরিয়ারের নেতৃত্বে ওখানে যায়.. এবং মাজেদ। মাজেদকে আমরা আনতে পেরেছি। কিন্তু রাশেদকে আনার জন্য বারবার আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। তাকে তারা লালন-পালন করে রেখে দিচ্ছে। আর নূর আছে কানাডায়। এদের কাছ থেকে আমাদের মানবতার সবক নিতে হয়! আমাদের মানবতার সবক শেখায় যারা আমার বাবা, মা, নারী-শিশুকে হত্যা করেছে, তারা তাদেরকে রক্ষা করে। রশিদ লিবিয়াতে পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে পাকিস্তানে যায়। ডালিমের খোঁজ…পাকিস্তানের লাহোরে আছে এইটুকু জানি, এর বেশি জানি না। মোসলেম উদ্দিন ভারতের আসামের কোনো অঞ্চলে ছিল, বহু চেষ্টা করেছি তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নামটাম পাল্টে রয়ে গেছে। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই কয়জনকে এখনো আনতে পারেনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৭ আগস্ট ২০২২
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের বিরোধীরা একটা সুযোগ পাচ্ছে। তারা আন্দোলন করছে। সেটা করুক, আমি তো চাচ্ছি, আমি নির্দেশ দিয়েছি— তারা আন্দোলন করছে, করতে দাও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করবে, আমি আসতে দেব। খবরদার, তাদের কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়, বিরক্ত করা না হয়। তারা আন্দোলন করতে চায়, করুক, অসুবিধা কী?রোববার (১৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো কিছু লোক থাকেই, প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে খামোখা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। ওই ছুতা ধরে— সেটা হচ্ছে কিছু কিছু। হঠাৎ এত দাম তো বাড়ার কথা নয় প্রত্যেক জিনিসের।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করছি, সেটা দেশের মানুষ জানে ও বোঝে। হ্যাঁ-না কথা বলবে। বিরোধী দল সুযোগ যখন পাচ্ছে, সেটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা যদি বেশি করতে চায়, এর প্রভাবে তো দেশের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। এটাও তাদের বোঝা উচিত।বিরোধী দলের আন্দোলনের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আন্দোলন করে তারা কতটুকু সফল হবে সেটা জানি না। কিন্তু যেটা করছে তাতে দেশের জন্য আরও ক্ষতি হবে। আমরা সেটা সামাল দিতে পারব, সেই বিশ্বাস আমার আছে।যখনই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমবে সরকার তাতে সমন্বয় করবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সেটা আমার নির্দেশ রয়েছে। তা করে দিচ্ছি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার সীমিত করতে হবে। হয়তো কিছুদিন আমাদের কষ্ট করতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যখন চালু হবে তখন বিদ্যুতের সমস্যা অনেকটা দূর হয়ে যাবে।নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যা যা ওয়াদা দিয়েছি সেগুলো পূরণ করেছি। করোনাভাইরাস, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা না থাকলে দেশের কোনো সমস্যা হতো না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বিষয়গুলোতে আমরা আমদানি-নির্ভর সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিজ নিজ জমিতে সবাইকে উৎপাদন করতে হবে। আমাদের খাবারটা যেন আমরা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি, বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়। সেই ব্যবস্থাটাই আমাদের নিতে হবে।নিষেধাজ্ঞায় আমেরিকা ও রাশিয়ার লাভ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রুবলের দামও বাড়ছে, ডলারের দামও বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী রুবল ও ডলার স্টক হয়ে গেছে। মরছে সব দেশের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য চরম দুর্ভোগ। সব দেশের একই অবস্থা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ মানুষের জীবনে সর্বনাশটা ডেকে এনেছে।শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট-এ কারবালার চেয়েও জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমার শুধু একটা প্রশ্নই জাগে মনে যে, আমার বাবা-মা-ভাইয়েরা কী অপরাধটা করেছিল? কেন এভাবে হত্যা করা হলো? এই শূন্য হাতে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ এবং একটা প্রদেশ, তাকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা এবং এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা.. হাতে সময় পেলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। কোনো সম্পদ ছিল না।সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংগঠনের মাধ্যমেই তো আমরা কাজ করি। আমাদের যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক যাই আসুক আওয়ামী লীগের বা আমাদের সহযোগী সংগঠন সবসময় তারা কিন্তু সজাগ থাকে এবং মানুষের পাশে সবার আগে দাঁড়ায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সেই সংগঠনকে সুসংহত করা— এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।তিনি বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যখন সরকারে ছিল, আমাদের যখন মেয়াদকাল শেষ হয়ে যায় তখন আমরা কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে আসি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত আর কখনোই ক্ষমতার পরিবর্তন এভাবে শান্তিপূর্ণভাবে হয়নি। প্রতিবারই কিন্তু একেকটা ঘটনার মধ্য দিয়ে ঘটেছে। এটা কিন্তু সবার একটু মাথায় রাখতে হবে। এর কারণ আওয়ামী লীগ সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, নীতিতে বিশ্বাস করে। জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। সেজন্য ওই একবারই... তারপরের ঘটনা তো সবাই জানে।আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন। সেই সময়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, মানুষ খুন করা, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার- সেখানে হিন্দু-খ্রিস্টান কেউ বাদ যায়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনের যে চিত্র সেটি সবার মনে আছে। তারপর বিএনপি-জামায়াত এসে বাংলাদেশকে পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলা। ১৫ আগস্টের খুনিদের জিয়াউর রহমান যে শুধু ইনডেমিনিটি দিয়ে মাফ করে দিয়ে পুরস্কৃত করেছে তা তো নয়। এরশাদ এসে খুনি ফারুককে প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট করল। খালেদা জিয়া এসে আরও একধাপ ওপরে। রশিদ-ফারুক-হুদা তিনজনকে নমিনেশন। ফারুককে জেতাতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেটা পারেনি। হুদা আর রশিদকে জিতিয়ে পার্লামেন্টে বসাল।তিনি বলেন, খুনি রশিদকে পার্লামেন্টের লিডার অব অপজিশনে বসাল। তার মানে এই দেশে খুনিদের সৌহার্দটা কত এটা জনগণের জানা উচিত। সেই খুনিদের তারা পুরস্কৃত করার মানে কী? ১৫ আগস্ট হত্যার সঙ্গে এদের যে সম্পৃক্ততা, জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা, ইনডেমিনিটি দিয়ে তাদের বিচার হবে না। আমরা যারা পনেরোই আগস্ট আপনজন হারিয়েছি আমাদের তো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। মামলা করার অধিকার ছিল না, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি এ দেশে চালু করে দিয়েছিল। যেখানে তুমি কোনো দিন ন্যায় বিচার চাইতেই পারবে না। খুব ইয়ে লাগে যখন কেউ মারা গেলে আমার কাছে বিচার চায়। আমার তো বিচার পেতে ৩৫ বছর সময় লেগেছে। আমার বাপ, মা, ভাই সব হারানোর পরেও বিচার চাইতে পারিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৪ আগস্ট ২০২২
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।শুক্রবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের শহিদ সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।এর আগে পারিবারিক সফরে সড়ক পথে পদ্মা সেতু পার হয়ে সকাল ৯টা ৫০মিনিটে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গোপালগঞ্জ সদরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে যান তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ আগস্ট ২০২২
জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিকে সংলাপে বসার জন্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ফের সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে নির্ধারিত সময়ে দল দুটি পরবর্তীতে সময় চেয়ে আবেদন করেছিল।বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) ইসির যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান বিষয়টি জানিয়েছেন।আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জেপির সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।গত ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩৯টি দলকেই সংলাপে আসার সময় জন্য দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বিএনপিসহ নয়টি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। ইসির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছে ৩০টি দল। এর মধ্যে দুটি দল আসতে না পারার কারণ দেখিয়ে পরবর্তীতে সংলাপের জন্য সময় চেয়েছিল। অর্থাৎ ২৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এক্ষেত্রে আগস্টের পরে সংলাপের জন্য সময় দিতে পারবে বলে জানিয়েছিল জাতীয় পার্টি-জেপি। আর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কারণে পরবর্তীতে সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি।যে নয়টি দল সংলাপে অংশ নেয়নিবাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তিন শতাধিক প্রস্তাব দিয়েছে ইসিকে, যার মধ্যে অনেক প্রস্তাবই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বারবার বলেছেন, ওই ধরনের প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সর্বোচ্চ ৪০টি প্রস্তাবনা দিয়েছে।গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে আউয়াল কমিশন বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করে। এক্ষেত্রে গত ১৩ মার্চ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী, ২২ মার্চ নাগরিক সমাজ, ৬ এপ্রিল প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক বা সিনিয়র সাংবাদিক, ১৮ এপ্রিল ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী-প্রধান বার্তা সম্পাদক-সিনিয়র সাংবাদিক, ৯ জুন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি এবং ১২ জুন নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি।এছাড়া প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইভিএম যাচাই করার জন্য গত ২৫ মে, এবং রাজনৈতিক দলগুলো সঙ্গে ১৯, ২১ ও ২৮ জুন, তিন দফায় বৈঠক করে ইসি। সে সময়ও বিএনপিসহ ১১টি দল সাড়া দেয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১১ আগস্ট ২০২২
জনশুমারির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে জনসংখ্যা সাড়ে ১৬ কোটির ওপরে। সেটাও কারও কারও হিসাবে পছন্দ হচ্ছে না। নিজেরাই সন্তান পয়দা দিতে থাকুক। আসন্ন জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ (সোমবার) কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। জনশুমারির এ হিসাব পছন্দ কেন নয় জানতে চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেরাই সন্তান পয়দা দিতে থাকুক। জনসংখ্যা বাড়াতে থাকুক। তারা সেটা করুক। আমরা খাবার দেব। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা চাই প্রত্যেকটা পরিবার যেন সুখি হয় এবং সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর মঙ্গা কবলিত উত্তরবঙ্গে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে লঙ্গরখানাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এই সময় তিনি সেখানে সফর করেন বলেও জানান। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কুড়িগ্রামের চিলমারীর বাসন্তীর ছবি প্রসঙ্গ তুলে ধরে তার বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা এবং তাদের করুণ অবস্থার কথা বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা।তিনি বলেন, তখন আমি শুধু বলেছিলাম আমার বাবার রক্ত নিয়েতো বাসন্তীদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাহলে কেন হত্যা করা হলো? দেশের মানুষ শোষণ-বঞ্চনার শিকারই থাকল। তাহলে এই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের চোর, ডাকাত বানালো। এত কিছু করলো। তাতে দেশের মানুষ কী পেলো? সেটাই বড় প্রশ্ন।১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম রক্তদান কর্মসূচি শুরু করলেও তৎকালীন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তাতে বাধা দেন বলে জানান শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের রক্তঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। আমরা রক্ত দিয়ে দেশের একজন মুমূর্ষু রোগিকে বাঁচাতে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসীরা মানুষের সেবায়, বিপদে-আপদে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ আগস্ট ২০২২
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অতিমাত্রায় সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। রোববার (৩১ জুলাই) নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।সিইসি বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একইভাবে কমিশনকে সহায়তা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা সে দায়বদ্ধতা থেকেই সংলাপের আয়োজন করেছি। ১৯৭০ থেকে আমরা নির্বাচন দেখে আসছি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন সম্পর্কেও আমরা জানি।তিনি বলেন, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন এক অর্থে সাম্প্রতিক। সংসদীয় পদ্ধতিতে সম্ভবত ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচন হচ্ছে। অতীতের অনেক নির্বাচন নিয়েই সমালোচনা বা তর্ক-বিতর্ক হলেও ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অতিমাত্রায় সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনাও তীব্র ও তিক্ত। নিরপেক্ষ থেকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে সমালোচনা ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে চাই।সিইসি বলেন, আমরা প্রায় চার-পাঁচ পর্বে সংলাপের আয়োজন করেছিলাম। সুধীজন তাদের মতামত উপস্থাপন করেন। নির্বাচনে অর্থশক্তি, পেশিশক্তির প্রভাব, নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই করে বাক্স ভরাট করা, ভোটকেন্দ্রে বাধা প্রদান, আমলাতন্ত্রের পক্ষপাতিত্ব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা ইত্যাদি বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে। আমরা মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে অবহিত করেছি।তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে চেষ্টা আন্তরিকভাবে করে যাব। এ সংলাপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় দল। বড় দলের কাছে প্রত্যাশাও বেশি থাকে। পরপর তিনবার সরকারে অধিষ্ঠিত। এজন্য সাধারণ জনগণ আওয়ামী লীগকে সরকারি দল বা ক্ষমতাসীন দল বলে থাকে। কিন্তু সংবিধানে সরকারি দল বা ক্ষমতাসীন দল বলে কোনো কথা নেই। আমি যদি ভুল বুঝে না থাকি, আওয়ামী লীগ আর দশটি দলের মতোই একটি রাজনৈতিক দল। সরকার একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় সংগঠন। এটি অবস্থানের একটি দ্বিমাত্রিকতা।সিইসি আরও বলেন, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তাসম্পন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে আইন ও বিধি-বিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে। আমরা আশা করি, সবাই কমিশনকে সহায়তা করবে।তিনি বলেন, সংলাপে কিছু বিষয় উঠে এসেছে। অনেক পার্টি মনে করছে একদিনে নির্বাচন করা সমীচীন হবে না। ভারতের মতো পৃথক দিনে হওয়া উচিত। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপ্রতুলতার কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অনেকে বলেছে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য। সেনাবাহিনীর জনমানুষের প্রতি আস্থা অনেক বেশি বলে তারা মনে করছে। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।তিনি আরও বলেন, আরেকটি বিষয়ে সংকট থেকে যাবে, তা হলো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ইভিএম নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থন পেয়েছি। অধিকাংশ দল ইভিএম বিশ্বাস করছে না। এর ভেতরে কী জানি একটা আছে। আমরা অনেককেই আস্থায় আনতে পারছি না।সংলাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। দলে ছিলেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কর্নেল ফারুক খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩১ জুলাই ২০২২
বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন, নারীর সংখ্যা আট কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ১২ হাজার ৬২৯ জন। বহুল প্রতীক্ষিত জনশুমারি ও গৃহগণনায় দেশের জনগোষ্ঠীর এ ফলাফল মিলেছে।বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ ফলাফল জানানো হয়। সারাদেশে গত ১৫ জুন একযোগে শুরু হয় জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম। গত ২১ জুন জনশুমারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলায় বন্যা শুরু হওয়ায় এসব জেলায় শুমারি কার্যক্রম ২৮ জুন পর্যন্ত চলে।বিবিএস প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। এরপর ১৯৮১ সালে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জনে। ১৯৯১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখে।২০০১ সালে চতুর্থ আদমশুমারি ও গৃহগণনা করা হয়, এসময় জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ২৪ লাখ। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জনশুমারিতে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ। ষষ্ঠ ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন।বিবিএস-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ১২ হাজার ৬২৯ জন। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২২ শতাংশ, এক দশক আগে যা ছিল ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা ঘনত্বের হার ১ হাজার ১১৯ জন এক দশক আগে যা ছির ৯৭৬ জন। এছাড়া ৯৮ জন পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ১০০ জন। ১০ থেকে তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২৮ শতাংশ অবিবাহিত এবং বিবাহিত ৬৫ শতাংশ। মোট জনংখ্যার ৯১ দশমিক ০৪ শতাংশ মুসলিম, হিন্দু ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। দেশে মোট সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবন্ধিতার হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ জুলাই ২০২২
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, 'সংবিধান যদি কালকেই সংশোধন হয়, আমরা এর আওতায় পড়ে যাব। ১৮তম হলে তার আওতায় পড়ে যাব। ১৯তম হলেও আমরা তার আওতায় পড়ে যাব। এতে আমাদের কোনো অসুবিধা বা বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা অবশ্যই সংবিধান মান্য করব।’‘রাজনৈতিক শক্তি বা দল কিংবা রাজনৈতিক শরীক দলগুলো যারা আছে, তাদের নিজেদের তরফে চেষ্টাগুলো করে যেতে হবে। যাতে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক পরিবেশটা ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অনুকূল হয়। নির্বাচনের সময় সব দল ও অংশীজনের আন্তরিক কমিটমেন্ট প্রয়োজন।'নির্বাচনকে 'কঠিন কাজ' উল্লেখ করে সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সঙ্গে সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।সিইসি বলেন, 'নির্বাচনের সময় যেটা হবে, তখন সরকার থাকবে। যে সরকারই হোক, একটা সরকার তো থাকবে। সরকার আমাদের সহযোগিতা করবে। আমরা সরকারের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারব। আমরা বলব, এই এই সহযোগিতাগুলো আমাদেরকে দিতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার তখন না করতে পারবেন না, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।'তিনি আরও বলেন, 'আইনের আলোকেই আমরা সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা চাইব এবং সে বিষয়েও আমাদের ভূমিকাটা দেখবেন। আমাদের ওপরে আরোপিত ক্ষমতাটার কমান্ড আমার হাতে। কিন্তু, শক্তিটা পুলিশের হাতে, শক্তিটা বিজিবির হাতে, শক্তিটা সেনাবাহিনীর হাতে। শক্তিটা আমার হাতে নয়, কমান্ডটা আমার হাতে আছে। আমরা কমান্ড করলে যেন শক্তিটা রেসপন্স করে, সেই ধরনের অবস্থা আমাদেরকে সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনের প্রয়োজনেই সেটি অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন।'
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৫ জুলাই ২০২২
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২২ জুলাই) দিনগত রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান। এসময় তার বড় মেয়ে ফাহিমা রাব্বী রিটা এবং একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের এই সংসদ সদস্য দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়জার রহমান এবং মাতার নাম হামিদুন নেছা।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ফজলে রাব্বী মিয়া মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেছেন।ফজলে রাব্বী মিয়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ জুলাই ২০২২
অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনিবার্যভাবে জাতির স্বার্থে প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপে এমন মন্তব্য করেন তিনি।সিইসি বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেই যাচ্ছি। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকে অংশ নিতে বারবার আহ্বান জানাচ্ছি। অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনিবার্যভাবে জাতির স্বার্থে প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।সিইসি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রয়োজন। পক্ষ-প্রতিপক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচনে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে। এতে করে সম্ভাব্য অনিয়ম, কারচুপি, দুর্নীতি, অর্থ শক্তির বৈভব ও পেশি শক্তির প্রভাব বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এটা আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি।সংলাপে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এ মুকিতের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২১ জুলাই ২০২২
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়েছে বিএনপি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, এই দলের জন্য অপেক্ষা করবেন।আজ বুধবার সকালে নির্বাচন ভবনে গণতন্ত্রী পার্টির সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা জানান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি।আজ বিকেল তিনটায় বিএনপিকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইসি সূত্র জানায় দলটিকে জানিয়েছে তারা এই সংলাপে অংশ নেবে না।বিএনপি সংলাপে আসছে না এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বলেন, 'আমরা ওয়েট করব।'বিএনপিকে সংলাপে আনার জন্য বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেবেন কিনা জানতে চাইলে এর কোনো উত্তর দেননি সিইসি।সিইসি সাংবাদিকদের বলেন,এ পর্যন্ত যতগুলো পার্টি সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের সকলের মনোভাব ইতিবাচক। ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তাঁরা। ইসিও তাদের এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে।সিইসি আরও বলেন, ‘আমরাও বলেছি সত্যিকার অর্থে এটিই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব যে প্রত্যেকটা ভোটার যেন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এটাই গণতন্ত্রের ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’সিইসি বলেন, প্রতিটি দলই বলেছে তারা ঐকমত্যে বিশ্বাস করে। ঐকমত্য তো হতেও পারে, নাও হতে পারে। কিন্তু ঐকমত্যের জন্য ইসি চেষ্টা চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যের চেষ্টা করলে ইসি আনন্দিত হবে বলেও জানান তিনি।এই সংলাপের মধ্য দিয়ে ইসির প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অনাস্থা দূর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইসির প্রতি অনাস্থা সব সময় আছে বা নাই দুটোই জিনিস। আপনারা তো পেপারেই দেখছেন একটা দলের হয়তো অনাস্থা আছে। আবার আমাদের সঙ্গে যারা বসেছে তাদের প্রত্যেকের আমাদের প্রতি আস্থা আছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২০ জুলাই ২০২২
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে প্রতিপক্ষকে রাইফেল নিয়ে দাঁড়ানোর কথা তিনি কৌতুক করে বলেছিলেন। তবে তিনি এ বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত। এ জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন।আজ মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই দলটিকে এ কথা বলেন। এ সময় সিইসি গণমাধ্যমকেও দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম বুঝে না বুঝে আর ওই বক্তব্য প্রচার করে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে দিয়েছে। তিনি যদি 'মিন' করে এ বক্তব্য দিতেন তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে অস্ত্র সংগ্রহ করতে বলতেন।হতাশা প্রকাশ করে সিইসি বলেন, তাঁর বাবা-মা পত্রিকা পড়তেন।বেঁচে থাকলে হয়তো পেপার পড়ে বলতেন ‘বাবু এত খারাপ পরামর্শ দিলে কেন? সিইসি পরামর্শ দেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠভাবে বলতে পারতো সিইসি হিউমার করে এমন কথা বলেছেন।একবার গণমাধ্যমকে দুষলেও পরে আবার সিইসি গণমাধ্যমকে সম্মান করেন বলে জানান। স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য বিগত নির্বাচনগুলোতে ইসি মিডিয়াকে অবাধ সুযোগ দিয়েছে বলে জানান।ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আমিনীর নেতৃত্বে ঐক্যজোটের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। সংলাপে বক্তব্যের সময় ‘তলোয়ার নিয়ে এলে আপনারা রাইফেল নিয়ে দাঁড়াবেন’ সিইসিকে এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দেয় দলটি। পরে সমাপনী বক্তব্যে সিইসি তার জবাব দেন।এনডিএম-এর সঙ্গে সংলাপে এ ধরনের একটি বক্তব্য আসার বিষয়টি উল্লেখ করে সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমার এক ভাই বলেছেন- ‘একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পরশু আমি বলেছিলাম যে, কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে আপনারা রাইফেল নিয়ে দাঁড়াবেন’। এটা আপনাদের বুঝতে হবে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কথাটি কখনো মিন করে বলতে পারেন না। আমি হয়তো অল্প শিক্ষিত। অল্পশিক্ষিত হলেও তারা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না।’সিইসি আরও বলেন, ‘ববি হাজ্জাজ সাহেবের কথার পিঠে আমি হেসে বলেছি তলোয়ার দেখালে আপনি একটি বন্দুক নিয়ে দাঁড়াবেন। এটা হচ্ছে কথার পিঠে কথা। এটা কখনো একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মিন করতে পারে না।আর যদি এটা আমি মিন করতে পারতাম- প্রথম দিন থেকেই সবাইকে বলতাম আপনারা অস্ত্র সংগ্রহ করবেন। আপনারা অস্ত্র সংগ্রহ করে নিজেদের শক্তিশালী করুন। আর এই কথাটি কখনো প্রথম দিন থেকে বলেছি বলে মনে পড়ে না।’
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ জুলাই ২০২২
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ইসি একটা সংকটে পড়ে গেছে। কারণ একটি বড় দল বলছে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আরেকটি দল বলছে নির্বাচন হবে। সিইসি এটাও বলেছেন যে, নির্বাচনের নামে নাটক মঞ্চস্থ হোক তা তাঁরা কখনোই চাইবেন না।আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এসব কথা বলেন।সিইসি বলেন, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার হতে হবে। সেখানে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও নির্বাচন হওয়া নিয়ে দুই দলের কথায় অনাকাঙ্ক্ষিত, কাঙ্ক্ষিত যাই হোক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সিইসি।যেভাবেই হোক গ্রহণযোগ্যভাবে নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, সুন্দর সংসদ ও সরকার গঠিত হোক এটা তাঁরা চান। আলোচনা ও সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলেন তিনি। কারণ এটির সঙ্গে সংবিধান জড়িত।নির্বাচনের সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে আনার প্রস্তাব বাস্তবায়ন জটিল বলে মনে করেন সিইসি। তিনি বলেন, এর সঙ্গে জটিল সাংবিধানিক বিষয় জড়িত রয়েছে। এটি নিয়ে সব রাজনৈতিক দল নিজের মধ্যে সংলাপ করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের অনেক ক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে হয়তো কোনো কারণে সেই ক্ষমতা পুরোপুরি প্রয়োগ করতে পারেনি। কিন্তু আমরা সেটি প্রয়োজনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করব।সকালে স্বাগত বক্তব্যে সিইসি বলেন, বিএনপিসহ কয়েকটি দল আগাম অনাস্থা দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কী বিশেষ সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হলাম তা বুঝতে পারছি না। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনোভাবে নতুন ব্যবস্থাপনায় নির্বাচনে আসে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৮ জুলাই ২০২২
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধগতির মধ্যেই এবার বাড়ছে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম। আজ বৃহস্পতিবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ নিয়ে গত ১৪ বছরে অন্তত ১৫ বার বাড়ানো হলো পানির দাম।ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের এপ্রিলে ও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মিলে মোট দুই দফা পানির দাম বাড়ানো হয়। এ দুই দফায় আবাসিকে প্রতি ১ হাজার লিটারে পানির দাম বেড়েছিল ৩ টাকা ৬১ পয়সা (৩১ শতাংশ)। বাণিজ্যিকে বেড়েছিল ৪ টাকা ৯৬ পয়সা (১৩ শতাংশ)।বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। আর বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে ১ হাজার লিটার পানির দাম বর্তমানে ৪২ টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত যুক্ত হবে।এদিকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব অন্য কাউকে না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেই অনলাইনে সেই দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছিলেন সংস্থাটির বর্তমান এমডি তাকসিম এ খান। কিন্তু সংস্থাটির বোর্ড সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মুখে তাঁর এই আবদার পূরণ হলো না। বোর্ড সদস্যরা একমত হয়ে তাকসিম এ খানের আমেরিকায় বসে ‘ভার্চ্যুয়াল অফিসের’ আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াসার বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় উপস্থিত দুজন বোর্ড সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।ঢাকা ওয়াসা পরিচালনা আইন অনুযায়ী সংস্থাটি নিয়ে সব নীতিনির্ধারনী সিদ্ধান্ত হয় ১৩ সদস্যের বোর্ড সভায়। আলোচ্যসূচিতে আজ নয়টি বিষয় ছিল। সভার একেবারে শেষ দিকে তাকসিম এ খানের ভার্চ্যুয়াল অফিসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।ওয়াসার বোর্ড সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব দীপ আজাদ জানিয়েছেন, তাকসিম এ খান যুক্তরাষ্ট্রে বসে দুই মাসের ভার্চ্যুয়াল অফিসের অনুমতি চেয়েছিলেন। তাঁকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে তাঁকে দুই মাসের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এই দুই মাস তিনি পূর্ণ ছুটিতে থাকবেন, ভার্চ্যুয়ালি কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তিনি ছুটিতে যাওয়ার আগে অন্য কাউকে ঢাকা ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। এই সময়ে তিনি বেতন-ভাতা পাবেন কি না জানতে চাইলে দীপ আজাদ বলেন, তাঁর ছুটি পাওনা থাকলে তিনি পুরো বেতন-ভাতা পাবেন।ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলেও তাকসিম এ খান সরকারি বিধি অনুযায়ী ছুটির সুবিধা পাবেন। বিধি অনুযায়ী, বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে ১ দিন করে অর্জিত ছুটি পাবেন তাকসিম এ খান। ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সবশেষ ২০২০ সালে এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকসিম এ খান কখনো ছুটি নিয়েছেন বলে তাঁদের জানা নেই। গত বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এই সময় তিনি ভার্চ্যুয়াল অফিসের অনুমতি নিয়ে গেছেন। সবশেষ স্পেনে এবং নেদারল্যান্ডসে দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ১৬ থেকে ২১ মে দেশের বাইরে ছিলেন তাকসিম। সে সময়ও তিনি ভার্চ্যুয়াল অফিস করেছেন, ছুটি নেননি।ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবারই দেশের বাইরে যাওয়ার আগে একটি অফিস আদেশ জারি করেন তাকসিম এ খান। ওই অফিস আদেশের মাধ্যমে তিনি অনলাইনে অফিস করার বিষয়টি জানিয়ে যেতেন এবং একজনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে রুটিন দায়িত্ব পালন করতে বলতেন। তাই এখন পর্যন্ত কোনোবারই দেশের বাইরে যাওয়ার সময় কাউকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করে যাননি তাকসিম এ খান। তাই এবার যদি কাউকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করা হয়, তা হলে তা গত ১২ বছরের মধ্যে প্রথম ঘটনা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৭ জুলাই ২০২২
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপকরণগুলোর দাম অত্যাধিক বেড়েছে। অনেক দেশেই এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। অনেক উন্নত দেশেও কিন্তু দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে গেছে।’মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘একদিকে করোনার একটা অভিঘাত, তার ওপরে এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ। যার ফলে আজকে সমগ্র বিশ্বেই যেমন তেলের দাম বেড়েছে, অনেক দেশেই এখন বিদ্যুতের জন্য হাহাকার। সব কিছুর দাম বেড়েছে। কয়লা এখন পাওয়া যায় না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পরিবহনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আগের মতো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। শুধু আমাদের দেশে না, প্রত্যেকটা দেশেই এখন জিনিসের ঘাটতি। এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি তাতে যেকোনও সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে। অর্থাৎ প্রতিটি পরিবারই যেন সঞ্চয়মুখী হয়, যে আমরা নিজেরা কিছু করবো।’করোনা সংক্রমণ প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আবার একটু পাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।'
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৫ জুলাই ২০২২
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা।সোমবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে তিনি সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ তার পরিবারের সদস্য ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার (৪ জুলাই) সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পরে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় টোল দেন।পরে সেতুর মাঝামাঝি গিয়ে পুত্র ও কন্যাকে নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্তের ফলকের সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে প্রায় আধাঘণ্টার মতো যাত্রা বিরতি নেয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। যাত্রা বিরতি শেষে আবারও তারা টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা শুরু করেন।বিকালে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৪ জুলাই ২০২২
ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে সড়কপথে প্রথমবারের মতো টুুঙ্গিপাড়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী।সোমবার (৪ জুলাই) সকাল আটটায় গণভবন থেকে রওনা হয়ে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পৈত্রিক বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি।এর আগে সকাল আটটা ৪৮ মিনিটে মাওয়া টোল প্লাজায় পদ্মা সেতুর টোল দিয়ে ওঠেন সেতুতে।ব্রিজের মাঝামাঝি গিয়ে সন্তানদের নিয়ে কিছু সময় পার করেন শেখ হাসিনা। সে সময় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ক্যামেরায় ছেলের সঙ্গে সেলফি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সজীব ওয়াজেদ জয় তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ছবি পোস্ট করেছেন।সকাল সোয়া ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা প্রান্তে যান এবং সেখানে ফলকের সামনে কিছু সময় দাঁড়ান। এরপর প্রায় ৪০ মিনিট বিশ্রাম নেন জাজিরা প্রান্তের সার্ভিস এরিয়া-২ এ। সোয়া ১০টায় সেখান থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৪ জুলাই ২০২২