বিএনপি ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী বছরের ১ থেকে ৭ জানুয়ারি দেশের সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।আজ বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দক্ষিণ হলরুমে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অনেকে।এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, 'এত বছর পরে আমরা "হীরক রাজার দেশে" চলচ্চিত্রের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।'
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
গত ১৪ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর নিখোঁজ বগুড়ার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন হৃদয় ও দেলোয়ার হোসেনের হদিস জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।একইসঙ্গে আনোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় ও দেলোয়ার হোসেনকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে তাদের আদালতে হাজির করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।আজ বুধবার নিখোঁজ দুই নেতার সন্ধান জানতে পৃথক দুই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আনোয়ারের ভাগ্নে নুরুন্নবী ও দেলোয়ারের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন আইনজীবী কায়সার কামালের মাধ্যমে পৃথক দুটি রিট করেন।তারা জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করলেও গতকাল পর্যন্ত তাদের কোনো আদালতে হাজির করা হয়নি।তারা এ ব্যাপারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।আনোয়ার হোসেন বগুড়ার কাহালু উপজেলা বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক এবং দেলোয়ার হোসেন উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতায় আনা। আবারও ক্ষমতায় এলে এসব বিষয় বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে দলটি।স্মার্ট বাংলাদেশ থিমে ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করবেন।বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।যে ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ-১. দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।২. কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।৩. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।৪. লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষিব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।৫. দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো।৬. ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো।৭. নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা।৮. সর্বজনীন পেনশন-ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা।৯.আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।১০. সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা।১১. সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটবর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছে বিএনপি ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন। এ সময় আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহারকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার এ কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরীন সুলতানা, অপর্ণা রায়, রেহেনা আক্তার রানু, আশিফা আশরাফি পাপিয়া, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।এ সময় সেলিমা রহমান বলেন, এই সরকার শুধু ব্যাংক থেকেই ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। একজন প্রার্থীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা বলে তারা নাকি ভারতের প্রার্থী। আমাদের প্রশ্ন অন্যদেশের নির্বাচনে ভারত কী করে প্রার্থী দেয়?আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সেলিমা রহমান বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ মানে আপনার সুবিধাভোগী কিছু লোকজন আছে, তারা সুবিধা ভোগ করবে। আর সাধারণ মানুষ অ্যানালগের মধ্যে ধুকে ধুকে মরবে-যা এখন হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই ইশতেহার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।প্রসঙ্গত, আজ বুধবার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দেওয়ার জন্য দেশের কোটি কোটি মানুষ মুখিয়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে আরও সমৃদ্ধ, আরও উজ্জ্বল, আরও আলোকিত করার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা আমাদের ডায়নামিক লিডার। ইনশাল্লাহ নির্বাচনে জয় আমাদের হবে। অসত্যের কাছে আমরা মাথা নতো করবো না।নির্বাচনের ভয় পাওয়ার কিছু নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ আগুন সন্ত্রাস জ্বালাও-পোড়াও বারে বারে আমরা দেখেছি। এসব ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস মোকাবিলা করেই আমাদের লাল-সবুজের পতাকা হাতে হৃদয়ের বন্ধরে পৌঁছাবো ইনশাল্লাহ। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আইআরআই তাদের গবেষণা রিপোর্টে বলেছে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে। আমরা ভয় পাবো কাকে। আমাদের জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।তবে এর আগে স্বাগত বক্তব্য দেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। এবার আবারও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে দলের ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ সরকারের ১৫ বছরের ভুলত্রুটির কথাও বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের সরকার পরিচালনার পথপরিক্রমায় যা কিছু ভুলত্রুটি, তার দায়ভার আমাদের। সাফল্যের কৃতিত্ব আপনাদের। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা কথা দিচ্ছি, অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।’আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।বক্তৃতার শেষ দিকে শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। তিনি বলেন, ‘আসুন, আরও একবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা আপনাদের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি দেব।’শেখ হাসিনা আরও বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে দেশ। এ উত্তরণ যেমন একদিকে সম্মানের, অন্যদিকে বিশাল চ্যালেঞ্জেরও। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অর্জনগুলো তুলে ধরে দলীয় প্রধান বলেন, ‘মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়, মাতৃভূমির স্বাধীনতা থেকে শুরু করে এ দেশের যা কিছু মহৎ অর্জন, তা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চমধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত দিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, সুস্থ রাখেন, তত দিন যা কর্তব্য হিসেবে আমি গ্রহণ করেছি, সেখান থেকে সরে আসব না। আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়েই আমি আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মা–বাবা, ভাই, আত্মীয়স্বজন—সকলকে হারিয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি শুধু আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। এ কাজ করতে গিয়ে আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে বারবার। কিন্তু বাবার কথা ভেবে, আপনাদের কথা ভেবে আমি পিছপা হইনি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই কথা জানান।ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ইইউকে জানিয়েছি, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। একে ঘিরে সারাদেশে ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা বিরাজ করছে। আশা করি, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।তিনি বলেন, বিএনপি সহিংসতা করছে। বাংলাদেশে খোমেনি আদলে বিপ্লব হবে- এমন দুঃস্বপ্ন দেখছে তারা। কিন্তু এটা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ, এদেশ নিয়ে বিদেশিদের এখন মাথাব্যথা নেই। ইউক্রেন, গাজা নিয়ে ভাবছে তারা।মন্ত্রী বলেন, ইইউকে বলেছি, ওয়েস্ট মিনিস্টার গণতন্ত্রের নতুন একটা কৌশল এবং মডেল আমরা তৈরি করতে যাচ্ছি। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কাজ করতেই পারেন। তাতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।তিনি আরও বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কে হবে, সেই বিষয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানতে চেয়েছেন। তারা বলার চেয়ে শুনতে আগ্রহী ছিলেন বেশি।এসময় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। দেশের প্রতিটি জেলার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশে আর কেউ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না।মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াকফস্টেট সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর-২ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের এ জনসভায় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার ছোটবোন শেখ রেহানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন। ওইদিন সকাল সকাল সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আর নৌকা নূহ নবীর নৌকা মার্কা। সেই মহাপ্লাবনের সময় মানুষকে বাঁচিয়েছিল। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উত্তরবঙ্গ মঙ্গা থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আর মঙ্গা পিরীত নেই। মঙ্গা থেকে মুক্তি পেয়ে এখন উন্নয়নের সুবাতাস বইছে। এই নৌকা মার্কায় আপনাদের জীবন-মান উন্নত করেছে। কাজেই আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার আরও একবার সুযোগ দেবেন। যাতে আপনাদের জীবন সমৃদ্ধ করতে পারি। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনার হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকায় ভোট দিবেন। এরপর তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই যে আমার প্রার্থী (রংপুর-২ আসনের আবুল কামাল মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকে) আপনাদের ছোট ভাই আপনাদের কাছে তুলে দিয়ে গেলাম। তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আরেকবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। এরপর আবার আসিব ফিরে ধান সিড়িটির তীরে এই তারাগঞ্জ বদরগঞ্জে বলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রংপুরের তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর এবং পীরগঞ্জের জনসভাস্থলের দিকে সমবেত হতে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই মিছিলে করে নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তারাগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করেন। রিকশা-ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে দলে দলে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের কোনো সমর্থন নেই দাবি করে তাদের নিশ্চিত পতন দেখছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন থাকে না, তারা কিছুদিন একটা স্বৈরশাসন চালানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু তাদের অনিবার্য পরিণতি হলো পতন, নিশ্চিত পতন।’ আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। বিএনপির পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকেরাও একই কর্মসূচি পালন করছে।আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘ডামি নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) এবং তাদের লোকেরা ছাড়া কেউ নাই এই নির্বাচনে। যেখানে একদলীয় নির্বাচন হচ্ছে, সেটা তো কোনো নির্বাচন না। কাজেই নির্বাচন হচ্ছে না। এই যে অবৈধ নির্বাচন, নির্বাচনের খেলা, এই খেলা খেলতে গিয়ে মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে। আমরা জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি-নির্বাচনের নামে যে খেলা, যে প্রহসন, এটা বর্জন করুন।’ নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো অর্থ হয় না। কারণ যাকেই ভোট দেবেন, আওয়ামী লীগই জিতবে। হয় তার দলের প্রার্থী, না হয় তার দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, ডামি প্রার্থী কিংবা দলের সমর্থক কোনো দলের প্রার্থী। নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে জনগণের কোনো আগ্রহ নাই। কারণ জনগণ জানে এটা কোনো নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বাঞ্চালের ষড়যন্ত্র করছে কিন্তু কোন লাভ হবে না। দেশের জনগণ কেন্দ্রীয় গিয়ে ভোটদানের মধ্যদিয়ে অপশক্তিকে রুখে দিবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ১৩ আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।মঙ্গলবার নিজ নির্বাচনী জনসংযোগ এর আগে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ৩২ নং ওয়ার্ড লালমাটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন নৌকার এই প্রার্থী।এ সময় নানক বলেন, ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনটি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দিতামূলক হবে। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কেউ বানচাল করতে পারবে না কারণ বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের এ নেতা বলেন, নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিত মূলক। সকল প্রার্থী প্রতিদিন দিতে করেই নির্বাচনে জয়ী হতে হয়। তাই নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় প্রার্থীদের সহিংসতায় না জড়ানোর অনুরোধ জানান নানক। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ১৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাদেক খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মীরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
এজেন্ট হয়ে দলের পক্ষে ক্যাম্পেইন করার সুযোগ নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভেতরে যারা থাকবেন তারা ভোট দিতে সাহায্য করবেন, কিন্তু ভোট কাকে দেবে সেটা প্রভাবিত করবেন না। এটা নিয়ম নয়, নিয়মকানুন মেনে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। এবারের নির্বাচন আমরা ভালোভাবে করতে চাই। নির্বাচন নিয়ে আমরা বদনাম নিতে চাই না। শেখ হাসিনা সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তার ইচ্ছাকে স্বার্থক করতে হবে।দলীয় এজেন্টদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এজেন্টরা অনেক সময় আকামের হোতা হয়। ভেতরে বসে দলের জন্য অতি দরদ দেখাতে গিয়ে নির্বাচনী শৃঙ্খলা হুমকিতে ফেলেন। এই এজেন্ট আমাদের দরকার নেই। দলে সুনাম যাতে থাকে, এরকম দায়িত্বশীল এজেন্ট দরকার। আমরা একটা আদর্শবাদী দল, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী- এ কথা মনে রাখতে হবে।মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা বিষয় খুব অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়, রেসপনসিবল লিডাররা দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলেন। এমপি ছিলেন, মন্ত্রীও ছিলেন, এমন লোকেরা ধমকের সুরে এখনো কথা বলেন। এখনো ক্ষমতার ধাপট যারা দেখান তাদের মুখ বন্ধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতে নির্বাচনের যে উদ্দেশ্য, সে উদ্দেশ্যকে আমরা ব্যাহত হতে দিতে পারি না। পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। অসুস্থ পরিবেশ যারা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখানে কোনো হেলাফেলা চলবে না।তিনি বলেন, রোজ পত্রিকা পড়লে দেখি ধমক দিচ্ছে, সংবিধান তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি নাকি? এলাকা জনগণের, জনগণকে ভোট দিতে হবে, তাদের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ভোটানরা কেন্দ্রে আসতে পারেন। বাধা দিলে সেই বাধা প্রতিহত করতে হবে।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, কিছু লোক, তাদের কথাবার্তা শুনলে অবাক লাগে, এরা কিসের জনপ্রতিনিধ? যারা বাজে কথা বলে, ফ্রি স্টাইলে কথা বলে, এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের কেউ ভোটের পরিবেশ নষ্ট করবেন না। যারা এই পরিবেশ নষ্ট করবেন, নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে, আমরা সেটাকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবো। এখানে কোনো কম্প্রোমাইজের কথা উঠবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচারে ও ভোট চাইতে রংপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বেলা সোয়া ১১টার দিকে। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি গণভবন থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা করেন।সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের জনসভায় যোগ দিতে রংপুরের তারাগঞ্জের পথে রওনা দেন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তারাগঞ্জ ওয়াকফস্টেট সরকারি কলেজ মাঠের সভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রংপুরের তারাগঞ্জ কলেজ মাঠে সমবেত হতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আরও বাড়ছে।সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তারাগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে উপস্থিত হতে শুরু করেন। রিকশা-ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে দলে দলে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তারা।তারাগঞ্জের জনসভা শেষে তিনি আবারও সড়কপথে পীরগঞ্জের ফতেহপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী ফতেহপুরে তার স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করবেন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। সেখানেই তিনি দুপুরের খাবার খাবেন।এর পর প্রধানমন্ত্রী রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সমর্থনে পীরগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংঘাতের আশঙ্কা সব সময় থাকেই। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। যারাই নির্বাচনের পরিবেশ দূষিত করবে, সংঘাতে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।নির্বাচনে বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে, তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা—এটা তো যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত ঘোষণা। এনডিআইসহ যে পাঁচ মার্কিন প্রতিনিধি এখন বাংলাদেশে আছেন, এ বিষয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।১৫ বছরে ব্যাংক খাত থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে—বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সিপিডি যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এনেছে, তাদেরই বলতে হবে সেই টাকাগুলো কোথায় আছে। তারা যদি বিস্তারিত তথ্য দেয়, আমরা সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনব।’এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপি লিফলেট বিতরণ করবে কেন? অসহযোগ করবে কেন? আসলে নির্বাচনের বিরুদ্ধে শান্তির প্রোগ্রাম হয় না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপির এই প্রোগ্রাম।’সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, উপদপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩
নৌকা মার্কায় ভোট না দিলে ভোটারদের বাড়ির পানি ও বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে এভাবেই হুমকি দিয়ে গতকাল শনিবার ভোট চান শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুম। এরকম একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে শেখ ফরিদ ভূঁইয়া মাসুমকে বলতে শোনা যায়, ‘নৌকা মার্কায় আপনাদের ভোট দিতে হবে। এটা আপনারা মনে রাইখেন। নয়তো আপনাদের এই যে পানি আছে, বিদ্যুৎ আছে, গ্যাস আছে, এগুলো কিন্তু কিছু থাকব না। এগুলা কিচ্ছু থাকব না, ঠিক আছে? আপনারা একটা জিনিস মনে রাখবেন। নৌকায় ভোট না দিলে খবর আছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। দেশের কিছু মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নাশকতা করছে। আন্দোলনের নামে মানুষ মেরে বিএনপি নির্বাচন বন্ধের ফায়দা লুটবে, সেটা মেনে নেওয়া হবে না।রোববার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবনে বড়দিন উপলক্ষ্যে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।অনুষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে স্বাধীনভাবে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’তিনি আরও বলেন, ‘সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হয়- এমন একটা সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। সারাদেশে ভূমিহীন-গৃহহীনদের ঘর করে দিচ্ছি। বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য এটা প্রযোজ্য।’বিশ্বের সব খৃস্টান ধর্মের মানুষকে বড় দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মাটি সবার জন্য। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে যুদ্ধ করেছে। সবার রক্ত মিশে গেছে এই মাটিতে। এ সময় প্যালেস্টাইনে ইসরাইলের চালানো হামলার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কাজ করি এদেশের মানুষের জন্য। আমরা মানবতার কথা বলি। যিশুখৃস্ট মানবতার কথা বলেছেন। মহানবী সা. মানবতার কথা বলেছেন। আমরাও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছি। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করছে এই দেশে হাজার বছর ধরে। আমরাও এই নীতি মেনে চলছে। ধর্ম যার যা উৎসব সবার।তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় সংঘাত আমরা চাই না। ধর্মীয় রীতি পালনে কেউ বাধা দিক সেটাও আমরা চাই না। আমরা প্রত্যেকে আনন্দ ভাগাভাগি করছি। এটাই সব থেকে আনন্দের। আনন্দ, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেই।বিরোধী দল প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ পুড়িয়ে কী অর্জন করছে তারা, এটাই আমার প্রশ্ন। আমরা চাই সংঘাত বন্ধ হোক। মানুষ পুড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে নির্বাচনী ফায়দা করবে, এটা এদেশে চলবে না। এই অন্যায় কখনও মেনে নেওয়া যাবে না। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। মানবতার কল্যাণ করাই ধর্মের শিক্ষা।গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে বড়দিন উদযাপনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আমাদের দলের হলেও তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই ভাবতে হবে।রোববার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্রই এখন মানুষের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এখন অন্য কোনো আলোচনা নেই। আমরা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ চাই। নির্বাচনকে নিয়ে কোনো সহিংসতা চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভায়োলেন্স ফ্রি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বা কোনো প্রার্থী যদি সহিংসতায় জড়ায় তাহলে নির্বাচন কমিশন যে আইনগত ব্যবস্থা নেবে, আমরা সেটিকেই সমর্থন করব। নির্বাচনকালীন কোনো সহিংস কর্মকাণ্ড সমর্থন দেব না, প্রশ্রয়ও দেব না।কাদের বলেন, যারা আমাদের দলের প্রার্থী আছেন এবং যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তারাও কিন্তু আমাদের দলেরই নেতাকর্মী। সুতরাং এর মধ্যে কোনপ্রকার পক্ষপাত বা কোনো বৈরি পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতমূলক প্রতিক্রিয়া আমরা চাই না, যা সমর্থনযোগ্য নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসানের সমর্থককে হত্যার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহম্মেদ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সালাউদ্দিন আহম্মেদ।ভুক্তভোগী সমর্থক এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনের ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহম্মেদ ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল হাসানের সমর্থক মো. সুজনকে নিজের গরুর খামারে ডেকে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বিষয়টির দ্রুত সুরাহা না হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থির সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর সালাউদ্দিন দিনে নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশিদ মুন্নার সঙ্গে আছেন দেখালেও রাতে কাজ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সজল মোল্লার পক্ষে। এলাকায় কেউ তার কথার বাইরে গেলেই তাকে হুমকি তিনি।হত্যার হুমকি পাওয়া সুজন বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমাকে ফোন করে ডেমরা থানাধীন রাজাখালী মসজিদ সংলগ্ন গরুর খামারে যেতে বলেন কাউন্সিলর সালাউদ্দিন। এ সময় আমাকে ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে কাজ না করে তার (সালাউদ্দিন) সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। আমি তাহলে কি নৌকার সঙ্গে কাজ করব, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নৌকা তোর … মধ্যে ঢুকায় দিবো। আমি যেখানে আছি, সেখানে থাকবি। না হলে নৌকা ও ঈগলের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণা করবি না। যদি করিস, তাহলে তোর বুকে পাড়া দিয়ে গলায় ছুরি চালিয়ে মাথা আলাদা করে দেবো, ভুড়ি বের করে ফেলব।সুজন আরও বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করায় কামরুল হাসান এবং ঈগল প্রতীককে ছাড়তে পারব না, জানালে কাউন্সিলর আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দিলেও তা জিডি আকারে নেয়নি। তবে, আমাকে এবং কাউন্সিলরকে ডেকে নিয়ে কোনোমতে মীমাংসা করে দেন। কিন্তু, এর পর রাতে আমার বাড়ির সামনে কাউন্সিলরের লোকজন ঘোরাফেরা করেছে, আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমি আমার পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সুজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি।থানায় মীমাংসার জন্য ডাকা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে ফোন রেখে দেন।এ সম্পর্কে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেছেন, তাদের ডাকা হয়েছিল। দুজনের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।জানতে চাইলে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল হাসান রিপন বলেছেন, যেখানে জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে এভাবে হত্যার হুমকি নির্বাচনে পরিবেশ নষ্ট করবে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আমি দলের নেতাকর্মীদের জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতার আহ্বান জানাই।এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশিদ মুন্না বলেছেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে। আমি কোনো মল্লযুদ্ধ চাই না। এ ধরনের ঘটনা যে-ই ঘটাক, তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আমি মনে করি।ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসার সাবিরুল ইসলাম বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। ম্যাজিস্ট্রেট যাচ্ছেন, তারা যাচ্ছেন। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ফাউল করে বিএনপি লাল কার্ড খেয়েছে। এখন ফাইনাল খেলা ৭ তারিখে থাকতে পারবে না। তাহলে কী হবে? আরও এক হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থী আছে, তাদের সঙ্গে খেলা হবে।শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের ২৮ তারিখে নয়াপল্টনের রাস্তা থেকে পালিয়ে গেল, তাদের এক দফা গেল কোথায়? কোথায় গেল ৫৪ দল? কোথায় গেল ৩২ দফা? বিএনপি হচ্ছে একটি ভুয়া দল।‘এলাকার বেকার ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু করতে হবে, আমার মাথায় আছে’তিনি বলেন, এরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মানে না, স্বাধীনতা মানে না। একুশে আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড মেরেছে।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপি পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, পুলিশের হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। তারা গাজীপুরে ট্রেনের লাইন কেটে মানুষকে রক্তাক্ত করেছে।পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য লিফলেট বিতরণ করা হলে তা আমাদের চোখে পড়লেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমনটি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। যদিও গত ২০ ডিসেম্বর আরেক নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছিলেন, ‘ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করতে বাধা নেই, তবে সেটি অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে শুধু বলা যেতে পারে।’আজ শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান এসব কথা বলেন।আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য লিফলেট বিতরণ হলে, আর তা চোখে পড়লেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎসবমুখর ভোট থাকবে ইনশা আল্লাহ।’ভোট প্রতিহতের বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, ‘কেউ ভোটে নাও আসতে পারেন, ভোট দিতে নাও পারে। ভোট প্রতিহত করার অধিকার কারও নাই। কিন্তু অন্যকে প্রতিহত করলে আমরা এবার সংশোধনী এনেছি যে সাত বছর পর্যন্ত জেল বা অর্থদণ্ড করার জন্য। পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট আমরা সকলকে বলেছি যে আপনারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। কোনো কার্পণ্য যাতে না হয়। কাজেই কোনো ব্যত্যয় হবে না।’ব্যত্যয় হলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান বলেন, ‘দায়িত্ব অবহেলা হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই আমরা ছাড় দেব না। প্রার্থীতা বাতিল হবে, কোনো না কোনো জায়গায় কারও না কারও, এইটুকু আভাস আমি দিয়ে রাখলাম।’স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কেন মাঠে দাঁড়াতে পারছে না, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের কেন আচরণবিধি মানাতে পারছেন না— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা পারছি না, এতে একমত হতে পারছি না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলা ঘুরে আসছি। আচরণবিধি বাস্তবায়ন হচ্ছে। আজকেও আমরা কিছু কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আরও কিছু তথ্য চেয়েছি। আগামীকালকে পেলে দেখবেন যে কিছু কঠোর সিদ্ধান্তে চলে যাব।’আনিছুর রহমান বলেন, ‘একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মারা গিয়েছেন। আমরা কঠোর সিদ্ধান্তে চলে যাব। কোনো রকম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। বড়-ছোট সকলকে একইভাবে দেখছি। সে ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাঠে নিরপেক্ষ অবস্থান আছে। কোনো শঙ্কা, ভয়ভীতি বা আনুকূল্য নাই। আমরা চরম নিরপেক্ষতার জন্য কেউ রেহাই পাবে না। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যা করার দরকার করে যাব।’পুলিশ কেন অবহেলা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আনিছুর বলেন, ‘যেই ঘটনা শুনলাম এটা কিন্তু সকাল বেলা তিনি তার বাড়ি থেকে কোনো একটা জায়গায় যাচ্ছিলেন, পথিমধ্যে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। তারা উভয়েই একই বংশের, তাদের মধ্যে আত্মীয়তা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তাদের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছিল, সে কারণেই হয়েছে, নাকি নির্বাচনের কারণে হয়েছে এই বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। নির্বাচনের কারণে অনেকে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয়টিও সামনে আনছে। আমরা নিরপেক্ষতার সঙ্গেই দেখব। এখানে যে কারও মৃত্যুই অনাকাঙ্ক্ষিত। এভাবে মৃত্যু, একটা মৃত্যুও আমরা চাই না। এ জন্য যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। একটু সময় দেন। বাকিটা আপনারা দেখবেন।’
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভন্ডুল করে ১/১১-এর মতো একটি অস্থিতিশীল সরকারের ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র, সংবিধানকে বাঁচাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে হবে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কোনো ভয় পাবেন না; আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে। সাহসের সঙ্গে দলে দলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।শুক্রবার বিকালে তার নির্বাচনি এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে বসুরহাট জিরো পয়েন্টে পথসভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত, কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য নুরুল করিম জুয়েল প্রমুখ।ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো বলেছিল- হাসিনা ও আওয়ামী লীগ পালাবারও পথ পাবে না। এখন তারা কোথায়? বিএনপিসহ ৩২ দল পালিয়ে গেছে। অলিগলিতেও তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; নির্বাচনে আসেনি, বর্জন করে প্রতিরোধ করবে বলে। অবরোধ, হরতাল, চোরাগোপ্তা হামলা, পুলিশ-আনসার হত্যা করতে পারে তারা। রেলে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা এসবই তারা পারে, এরা সবাই ভুয়া...। বিএনপি বলে তাদের হাজার হাজার লোক কারাগারে। তারা পুলিশ মারে, আনসার হত্যা করে, গাড়িতে আগুন দেয়, ককটেল, পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে; তারা জেলে যাবে না কারা জেলে যাবে।তিনি আরও বলেন, সবাই আচরণবিধি মেনে চলুন, আচরণবিধি না মানলে এবং ফাউল করলে খবর আছে। ধরা খেলে কারো জন্য তদবির করব না। আমরা নির্বাচন আচরণবিধির ওপর শ্রদ্ধাশীল। আজকে দেখুন আমার গাড়িতেও জাতীয় পতাকা নেই। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ ও আমিসহ সিলেটে গিয়েছিলাম, জাতীয় পতাকা ছিল না। সিলেট বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তাও ছিল না।কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বলে- নির্বাচনে বাধা দিলে নিষেধাজ্ঞা দেবে। নির্বাচন এখন কারা বাধা দিচ্ছে, কারা আগুন দিচ্ছে, পেট্রলবোমা মারছে? ট্রেনে আগুন দিয়ে মা-ছেলেসহ চারজনকে পুড়িয়ে মেরেছে। এগুলো কি ফৌজদারি অপরাধ নয়। এসব অপরাধে বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হচ্ছে এবং এ ধরনের অপরাধে তাদের বিচার হতেই হবে।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ওদের দণ্ডিত নেতা তারেক বলে- ট্যাক্স দেবে না, সরকারকে ট্যাক্স দিতে নিষেধ করছে জনগণকে। এ নেতার কথা শুনে এখন ঘোড়াও হাসে। হাওয়া ভবনের এ অর্থচোরা তারেক কিভাবে জনগণকে বলে ট্যাক্স না দিতে।টেম্স নদীর পাড়ে বসে লম্বা লম্বা কথা না বলে তারেককে দেশের রাজপথে আসতে বলেন তিনি।কাদের বলেন, ২০০৭ সালে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দণ্ডিত হয়ে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান লন্ডনে পালিয়ে যান। মা-ছেলে দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত দণ্ডিত আসামি। এরা হলো বিএনপি নেতা। লুটেরা টাকা পাচারকারীদের বাংলাদেশের জনগণ নেতা কিভাবে মানবে?তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সৈনিক। নাশকতাকারী বা কাউকে ভয় পাই না। একমাত্র আল্লাহকে ভয় করি। আমার কর্মকাণ্ডে কেউ কোনো দুঃখ পেয়ে থাকলে, নিজগুণে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে, তা আমারই ব্যর্থতা। কারণ আমি যেহেতু দলের বড় নেতা। তৈরি থাকুন, ৭ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে। বিএনপি না থাকলে কী হয়েছে, সারা দেশে ১৮৯৬ জন ৭ জানুয়ারি খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনাল খেলবে। দেশের জন্য আমাদের দলের নেতারা সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছে। এছাড়া আর সবই ভুয়া।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩