দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু না হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছু থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনিছুর রহমান।তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ হয়তো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।আনিছুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা ছাড়া আমাদের কোনো গন্তন্তর নেই। কাজেই আপনাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ নির্বাচন শুধু আমাদের বিষয় নয়। পুরো বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা যদি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে না পারি তাহলে সামনে খারাপ দিন অপেক্ষা করছে। এক্ষেত্রে আর্থিক, সামাজিকসহ নানাভাবে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং ৫দিন আপনাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আর মাত্র ছয়দিন পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে ২৮ নভেম্বর থেকে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন। আচরণবিধি প্রতিপালনে তারা কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। এবারই প্রথম প্রতিটা আসনভিত্তিক সার্বক্ষণিক জুডিশিয়াল অফিসার দিয়ে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি করা হয়েছে। উভয় মাঠে খুব ভালো কাজ করেছে। এক মাসেরও বেশি সময় পুরো মাঠ চষে বেড়িয়েছি। সিইসিসহ অন্যান্য কমিশনাররা দেশের বিভিন্ন স্থানে গেছেন।নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, আচরণবিধি প্রতিপালনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। একই সঙ্গে যে অভিযোগগুলো তাদের কাছে এসেছে, আর তারা যেটা সমাধান করতে পারেনি বা রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং অফিসার সেগুলো ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে দিয়েছে, তারা কারও কারও হাজিরা চেয়েছেন। কাউকে শোকজ করেছেন, লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। কিছু আমাদের কাছে এসেছে, আমরা সেগুলোর ব্যবস্থা নিয়েছি।সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ইসির চেষ্টার শেষ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সহিংসতা খুব কম। যদিও ক্ষেত্র বিশেষে দু-একটা ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন অন্যবারের চেয়েও কম। তারপরও আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাই না।অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত রাখতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আপনাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দফার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪৩১ জন ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে দেশ অচল করে দেওয়ার কথা বলে দেওয়া বিএনপির কর্মসূচি আমরা আমলে নিচ্ছি না। অতীতেও আমলে নেইনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘোষণা আমলে নেবো না।তিনি বলেন, অনেক ঘোষণাই আমরা অতীতে শুনেছি। যেসব ঘোষণা দেশবিরোধী, জনবিরোধী, সংবিধান বিরোধী তা জনগণ পছন্দ করে না। আর আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজই হচ্ছে যারা সংবিধান মানে না, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ঢাকার চতুর্দিকে আমাদের নজরদারি আছে। যারাই নাশকতা, দুর্বৃত্তায়ন চালানোর চেষ্টা করছে তাদের গ্রেফতার করা হবে।বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব একথা বলেন।অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এক সময় বাসে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে। আমরা সব সময় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব কিছু করে থাকি। হামলাকারীদের অনেককেই আমরা গ্রেফতার করেছি। পাশাপাশি আমাদের ডিবি ও থানা পুলিশ ঢাকার সরকারি, বেসরকারি ও কেপিআইভুক্ত (রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) রেল ও মেট্রোরেলসহ সব স্থাপনায় নিরাপত্তা দিচ্ছে, খেয়াল রাখছে। যাতে করে দুর্বৃত্তরা দুর্বৃত্তায়ন, নাশকতাকারীরা যাতে নাশকতা চালাতে না পারে।তিনি বলেন, আমি মনে মেট্রোরেলের নিরাপত্তার জন্য যারা নিয়োজিত রয়েছেন, সেটি পর্যাপ্ত নয়। যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে মেট্রোরেলে যাতায়ত করতে পারেন সেজন্য লোকবল আরও বাড়ানো উচিত।ডিবি’র মহানগর প্রধান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা হচ্ছে সেটা যাতে না হয় সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের সব পুলিশ সদস্য যার যা দায়িত্ব তা পালন করে যাচ্ছি। আশঙ্কা নেই। কিন্তু আশঙ্কা ঘিরেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে করে কিছু না ঘটে। যারাই নাশকতা, দুর্বৃত্তায়ন চালাবে বা চালানোর চেষ্টা করছে, ভাড়াটিয়া ভাড়া করে কারা নাশকতার চেষ্টা করছে, তাদের অনেকের নাম পরিচয় আমরা জেনেছি। অনেককে গ্রেফতার করেছি। আরও যাদের নাম আমরা জেনেছি তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এতো নিরাপত্তার মাঝেও তেজগাঁওয়ে যারা আগুন দিলো তাদের চিহ্নিত করে কেন গ্রেফতার যাচ্ছে না– জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা অধিকাংশ ঘটনায় আপ্রাণ চেষ্টা করি শনাক্ত করার জন্য। আমরা বেশিরভাগ ঘটনায় শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। কিছু কিছু ঘটনায় আমরা নাম ও নম্বর জেনেছি। দেড় মাস আগে ঘটনা জেনেছি। গত রাতে আমরা ‘পিচ্চি মনির’কে গ্রেফতার করেছি। তার মানে হচ্ছে আমরা লেগে আছি বলেই গ্রেফতার করতে পেরেছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি জায়গায় আমরা উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে। আজ বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। তারা ভোট ঠেকানোর নামে ২০১৩-১৪ সালে যে অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল, সেই ভয়ংকর রূপ নিয়ে আবার মাঠে নেমেছে।শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ছয় জেলার জনসভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, নেত্রকোণা, বরগুনা ও রাঙ্গামাটি জেলার জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।তিনি বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে রেলে আগুন দিলো, ফিশপ্লেট খুলে ফেলল, রেলের বগি পড়ে সেখানে একজন মারা গেল। বাসে আগুন দিচ্ছে, ঘুমিয়ে থাকা হেলপার মারা গেল। ঠিক এভাবে আবার তারা অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের ওপর বিএনপি-জামায়াত যেভাবে অত্যাচার নির্যাতন করেছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ’৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
আগামী ১ জানুয়ারি (সোমবার) রাজধানীতে নির্বাচনী জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। ওই দিন বিকেল ৩টায় মোহাম্মদপুরে শারীরিক চর্চা কেন্দ্র মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত আসছে...
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
আগামীকাল বুধবার থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আগামীকাল সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন।সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার সকালে বিমানে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছাবেন শেখ হাসিনা। সেখানে পৌঁছেই তিনি দুই সুফিসাধকের মাজার জিয়ারত করবেন। মাজার জিয়ারতের পর বিকেলে নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নির্বাচনী সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট, রাজশাহী বিভাগের নাটোর ও পাবনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ভার্চ্যুয়ালি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
আজ মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার পরে রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে তারা মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছে। তারা পুরুষ। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।বেলা ১১টার দিকে কথা হয় মিজানুরের সঙ্গে। বললেন, ‘আমি চিৎকার করে কাঁদতে চাইছি। কিন্তু পারছি না। আমার ভেতরে কী চলছে এটা বোঝাতে পারব না। আমারতো সবই শেষ হয়ে গেল। কী অপরাধে আমার সব শেষ হয়ে গেল জানি না। আমি কারও কাছে বিচার চাইব না। এখন একটাই চাওয়া আমার স্ত্রী-সন্তানকে যেন আর কাটা-ছেঁড়া করা না হয়। শুধু অক্ষত লাশ ফেরত চাই।’ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করেন মিজানুর। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায়। বড় ছেলে রিয়াদ হাসান ফাহিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ছেলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত ৩ ডিসেম্বর দুই সন্তান নিয়ে তাঁর স্ত্রী নাদিরা আক্তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় যান। সেখান থেকেই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। নাদিরার কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাই হাবিবুর রহমানও সঙ্গে ছিল। ট্রেনে আগুন লাগার পর ফাহিমকে নিয়ে হাবিবুর ট্রেন থেকে নেমে যান। তবে নাদিরা ও ইয়াছিন আটকা পড়ে।গতকাল সোমবার রাতে স্ত্রী নাদিরার সঙ্গে কথা হয়েছিল মিজানুরের। বলেন, ‘রাতে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ওঠার পর নাদিরার সঙ্গে কথা হয়েছিল। বউ আমার বলেছিলো তোমার সাথে কাল সকালে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। আজ ভোর ৫টার দিকে নাদিরার ভাই হাবিবুর ফোন করে আগুন লাগার খবর দেয়। বাসা থেকে দ্রুত তেজগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছাই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন চারটি লাশ নামায়, দেখি আমার স্ত্রী-সন্তান পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।’ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় আহত হয়েছেন নুরুল হক আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তি। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি যে বগিতে ছিলেন, সেই বগিতেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলেন তিনি। বলেন, ‘বিমানবন্দর স্টেশন পার হয়ে বনানীর কাছাকাছি আসার পর ওই বগিতে আগুন লাগে। তখন রেলের নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাক পরা কয়েকজন অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিয়ে যায়।কিছুক্ষণ পরই অন্য বগিতে আগুন লেগে যায়। ১০ সেকেন্ডের ভেতরে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তখন ট্রেন অনেক গতিতে চলছিল। দরজা খুলে গেটের কাছে দাঁড়াই। তখনো ধোঁয়ার কারণে নিশ্বাস নিতে পারিনি।’ পরে ট্রেন থেকে লাফ দেন বলেন নুরুল হক।তেজগাঁও বিভাগ ও রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে আগুন দিয়েছে। অগ্নিসংযোগকারীরা হয়তো আগুন দিয়ে বিমানবন্দর স্টেশনেই নেমে গেছে। ওই এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই ট্রেনের সব যাত্রীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক দিদার আহম্মদ তেজগাঁও রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে বলেন, কারা আগুন দিয়েছে, সেটি উদ্ঘাটনে রেলওয়ে পুলিশ এরই মধ্য তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও কাজ করছে। শিগগিরই এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
রাজধানীর গুলিস্তান জিপিওর সামনে একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনের সংবাদ পেয়ে দুটি ইউনিট পাঠিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, আমরা মাত্র আগুনের খবর পেয়েছি। খবর পাওয়া মাত্র দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।এদিকে, বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় হরতাল শুরু হয়েছে।প্রথমে সোমবার ভোর ৬টা থেকে হরতাল ডেকেছিল বিএনপি। পরে কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল সাবাহ-এর মৃত্যুর কারণে দেশে একদিনের (সোমবার) রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় হরতাল একদিন পিছিয়ে মঙ্গলবার পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।গত রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীর মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান যে আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতায় ১৮ ডিসেম্বর (পরে ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল ঘোষণা করছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) ইসির উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।চিঠিতে ইসি জানায়, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করার নিমিত্তে নির্বাচন কমিশন সম্ভব সকল আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার জন্য সার্বিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের পূর্বে, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার নিমিত্ত ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমগ্র বাংলাদেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ হতে ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত (যাতায়াত সময়সহ) সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হবে মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্ব থেকে নির্বাচনী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো এবং নির্বাচনী পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার নিমিত্তে প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট আকারের একটি করে অগ্রবর্তী টিম পাঠানো যেতে পারে।ইসি জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য আইনে বিধান অনুসারে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের ৭ম ও ১০ম অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হবে। মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী কাজে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পরামর্শে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় (ক) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং সুবিধাজনক স্থানে নিয়োজিত থাকবে; (খ) রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণকে মোতায়েন করা হবে, (গ) সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে এবং আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম গৃহীত হবে; (ঘ) সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে এলাকাভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে; (ঙ) ভোটগ্রহণের দিন, তার আগে ও পরে কার্যক্রম গ্রহণ ও মোতায়েনের সময়কালসহ বিস্তারিত পরিকল্পনা অবহিত করতে হবে; (চ) বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এর অনুরোধক্রমে চাহিদামত আইনানুগ অন্যান্য কার্যক্রমে সহায়তা করতে হবে।এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।উল্লেখ্য, রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেনা মোতায়েনে ইসির আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি দেন।এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য সেনাবাহিনী ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা।সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোতে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তারা এই প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছেন।নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তি শেষে গতকাল রোববার ইসি জানায়, ২৭ রাজনৈতিক দলের মোট ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার আগের দিন গতকাল আওয়ামী লীগ ও তার শরীক দলগুলো এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্ধারণ শেষ হয়।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শরিক ১৪ দলকে ৬টি, জাতীয় পার্টিকে ২৬ আসনে ছাড় দিয়ে ২৬৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের প্রার্থীরা নৌকা এবং জাতীয় পার্টি লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন।ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের নৌকার পোস্টার টাঙাতে দেখা গেছে। তবে, নির্ধারিত তারিখের আগে বিভিন্ন নির্বাচনী সভার আয়োজন করায়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীদের শোকজ ও তলব করেছে ইসি।এবারের নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই ১-৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর।মোট ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৭৪৭ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩
পেঁয়াজের ঘাটতি ও চড়া দামের এই সময়ে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ভালো ফলনের খবর দিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। এ বছর জেলার সাড়ে চার হাজার কৃষক কৃষি বিভাগের প্রণোদনায় সাড় চার হাজার বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। ভালো ফলন ও ভালো দাম পেয়ে তাঁরা দারুণ খুশি।গতকাল রোববার সকালে সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের রানীহাটি গ্রামে গিয়ে কথা হয় পেঁয়াজচাষি সায়েম আলী, কামাল আলী, মো. মোমিন, রুবেল আলী ও তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। প্রায় পাশাপাশি জমি তাঁদের। এরই মধ্যে কেউ কেউ জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। কেউ পেঁয়াজ তুলছেন। এই কৃষকেরা জানান, এক বিঘা করে জমিতে চাষের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে তাঁরা প্রণোদনা হিসেবে পেয়েছেন ভারতীয় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজের বীজ, সার-কীটনাশক ও ২ হাজার ৮০০ টাকা। কয়েক বছর ধরেই পেঁয়াজের চাষ করলেও এবার ফলন বেশি হয়েছে বলে জানালেন তাঁরা।তরিকুল ইসলাম বলেন, গত ১০ থেকে ১২ দিনে তিনি খেতের সব পেঁয়াজ ঘরে তুলেছেন। বিক্রিও করছেন। এক বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ১০০ মণ। শুরুতে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। তবে গত শনিবার তাঁর বাড়ি থেকেই এক পাইকার ৫ মণ পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গেছেন ৬ হাজার টাকা মণ দরে।'বেশির ভাগ কৃষকেরই ভালো ফলন হয়েছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাঁরা ভালোই লাভের মুখ দেখবেন। এ পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দামও কমবে,' বলেন পলাশ সরকার, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সায়েম আলী জানান, তিনি অল্প কিছু পেঁয়াজ তুলেছেন। পেঁয়াজের আকারও হয়েছে বেশ বড়। একেকটি ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। এক বিঘায় ফলন ১১০ থেকে ১২০ মণ হবে বলে আশা করছেন তিনি। কমপক্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন সায়েম আলী। এ দামে বিক্রি করতে পারলে তাঁর লাভ হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা। তবে এ লাভ এখনকার বাড়তি দামের জন্য হবে বলে জানান তিনি।রানীহাটি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জোহরুল ইসলাম বলেন, রানীহাটি মৌজায় ১৮ জন কৃষককে প্রণোদনা দিয়ে ১৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করানো হয়েছে। সবার জমিতেই ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি ১০৫ থেকে ১২০ মণ ফলন হবে বলে আশা করা যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক পলাশ সরকার বলেন, জেলায় তিন দফায় সাড়ে চার হাজার কৃষককে প্রণোদনা দিয়ে সাড়ে চার হাজার বিঘা জমিতে ভারতীয় এন-৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ করানো হয়েছে। বেশির ভাগ কৃষকেরই ভালো ফলন হয়েছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাঁরা ভালোই লাভের মুখ দেখবেন। এ পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দামও কমবে।চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে পেঁয়াজের আকার একটু ছোট হওয়ায় বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ মণ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আকরাম প্রথম আলোকে বলেন, এই ফলনও কম কিছু নয়। এখানকার চাষিরা এখন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন। হাসি ফুটেছে তাঁদের মুখে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১১ ডিসেম্বর ২০২৩
আপনার সমবয়সী বান্ধবী হয়তো ভালো একটা বিয়ের জন্য কোনোভাবে পড়াশোনাটা শেষ করেছেন বা পড়াশোনা শেষ করেই কেবল আর্থিক দায় থেকে চাকরি নিয়ে বিয়ে করে সন্তান, সংসার সামলাচ্ছেন। আর আপনি তাঁদের একজন হয়েও এসবের ভেতরে ভরসাম্য করছেন। অথবা ভারসাম্য করে বা না করে কেবল পেশাজীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। লোকের পাঁচ কথা উপেক্ষা করে নারী হয়েও আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতাকে জীবনে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজের সফলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আপনি একজন আলফা নারী। আলফা নারীরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আত্মনির্ভরশীল, যুক্তিবাদী। নিজের ক্ষমতা–সীমাবদ্ধতা আর তিনি কী চান—এই দুই বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান রাখেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে সহজে মানিয়ে নেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে চিনবেন আলফা নারী।সবসময় কোনো না কোনো লক্ষ্য কেন্দ্র করে জীবন যাপন করেনআপনার জীবনের একটি নির্দিষ্ট মুখ্য উদ্দেশ্য রয়েছে, যা অর্জনের জন্য আপনি ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আপনার সবকিছুই সেই উদ্দেশ্যকে ঘিরে। হতে পারে সেটা আপনার চাকরি, সম্পর্ক, সন্তান, সামাজিকতা অথবা পদাধিকার বা অন্য যেকোনো লক্ষ্য। আপনি সহজেই হাল ছেড়ে দেন না কিংবা কোনো ব্যর্থতা আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারে না। বরং ব্যর্থতা আপনাকে নতুন শুরুর শক্তি যোগায়। সেসব ক্ষেত্রে আপনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন হাসিমুখে। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, পরিবর্তনে ভয় না পাওয়ার সাহসও আপনি রাখেন। আপনার সাহস অদম্য!উচ্চ মানসিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্নআপনি আপনার আবেগকে চিনতে, বুঝতে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। জানেন যে কোথায় কতটুকু আবেগ প্রকাশ করা যায়, কিংবা কখন আবেগকে প্রশ্রয় দিতে নেই। খুব সহজে মানুষ চিনতে পারেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সহজেই অন্যদের প্রভাবিত করতে পারেন।মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে আপনিযখন আপনি কোনো একটি অনুষ্ঠান বা দলে থাকবেন, তখন আপনার আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে সবাই আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইবে, মতামত জানতে চাইবে। আপনি আপনার দলের মতমোড়ল (অপিনিয়ন লিডার)। গবেষকেরা দেখেছেন যে আলফা নারীদের প্রায়ই পরামর্শদাতার অবস্থানে রাখা হয়। নন-আলফারা দল ছেড়ে চলে গেলে তেমন কিছুই আসে–যায় না। তবে যখন একজন আলফা নারী দল ছেড়ে যান, তখন অদ্ভুত কিছু ঘটতে দেখা গেছে। হয় মতবিনিময় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, কিংবা দলের অন্যরা একজন নতুন আলফার প্রত্যাশায় চারপাশে তাকান, অথবা সবচেয়ে বেশি যেটা হয়—দলটি ভেঙে যায়!বহির্মুখী ও অন্তর্মুখী স্বভাবের মাঝামাঝি থেকে সম্প্রীতি ছড়ানদলের মধ্যমণি হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ, আড্ডা যেমন দিতে পারেন, তেমনি বন্ধুদের সমস্যায় সবার আগে এগিয়ে আসেন, মানুষকে ভালোবাসেন। আবার একা থাকতেও পছন্দ করেন। একা সময়ে নিজেকে ‘রিচার্জ’ করে নেন। নিজের যত্ন নেন, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করেন, সবকিছুর ভারসাম্য করতে শেখেন।নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষাআলফা নারীদের উপস্থিতি সবাই পছন্দ করে, তাঁদের পরামর্শ শোনে। তবে আলফা নারীরা বিষয়টি উপভোগ করেন, অন্যকে ভালো কাজে প্রভাবিত করেন, অনুপ্রেরণা দেন। খুব অল্প বয়স থেকেই ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি ভাগাভাগি, সহযোগিতা, মানুষ চিনতে পারার গুণ শেখানো হয়। তাই মেয়েরা অন্যদের আবেগ পড়তে পারেন, একটি দলের অন্যদের আবেগ-চিন্তা ধরতে পারেন। আলফা নারীরা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই গুণ সহজেই কাজে লাগান।নতুন কিছু জানা ও শেখার প্রতি প্রবল আগ্রহআলফা নারীরা নতুন নতুন বিষয় শিখতে, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করতে পছন্দ করেন। তাঁরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন, অভিজ্ঞতা থেকে শেখেন, নতুন কিছু শেখার নেশায় আশপাশে তাকান, পর্যবেক্ষণ করেন।পৃথিবীতে আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটা হলেন মাআলফা নারীদের তাঁদের মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক শক্তিশালী। যখন কোনো নারী তাঁর পরিবারে ছোট থেকে একজন শক্তিশালী মা ও দৃঢ় পারিবারিক ভিত্তির সাহচর্যে থাকেন, তখন তাঁরাও ছোট থেকে জীবনে কিছু করার, ঘরের বাইরের দুনিয়া দেখার সাহস নিয়ে বেড়ে ওঠেন।সায়েন্স অব পিপল অনুসারে, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় অনেক পুরুষই আলফা নারীদের ‘ভীতিকর’, ‘লাউড’, ‘দৃষ্টিকটু’, ‘দলবাজ’—এসব ট্যাগ দেন। কেননা, অবচেতনে তাঁরা এই নারীদের নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন। এই নারীদের কারণে তাঁদের ক্ষমতাচর্চার সীমা কমে আসবে বলে আশঙ্কায় থাকেন। এই ক্ষমতাচর্চার লড়াইয়ে নারীরা যোগ্য দাবিদার হিসেবে অনেক বাধা ঠেলে নিজেদের উপস্থাপন করেন। তবে আলফা নারীরা কিন্তু এই পুরুষদের নিয়ে ভাবেন না। তাঁদের ভাবনাজুড়ে থাকে তাঁদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, আপনজন, মা, জীবনসঙ্গী, সন্তান, বন্ধু, সমাজ আর সুস্থ ও যৌক্তিক ক্ষমতাচর্চা। তবে ম্যারেজ ডটকমের সমীক্ষা বলছে, আলফা নারীর জন্য আলফা পুরুষেরাই সেরা জীবনসঙ্গী!লেখা: সুমাইয়া অনন্যা, সূত্র- প্রথম আলো
নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩
এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে ‘গণতন্ত্র, সুশাসন ও শুদ্ধাচার চর্চার রাজনৈতিক অঙ্গীকার: টিআইবির সুপারিশমালা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে পরিমাপকগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা যে পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে মোটামুটি ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, সেটি আমরা এবারও পাচ্ছি না। এটি আমাদের উদ্বেগের বড় কারণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩০ নভেম্বর ২০২৩
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কারণে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা দুই মাস বাড়ানো হয়েছে।রিটার্ন দেওয়ার নির্ধারিত সময় আগামীকাল ৩০ নভেম্বর শেষ হলেও ব্যক্তি পর্যায়ে এই সময়সীমা দুই মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।সরকারি ৪০ সেবা পেতে রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে দিতে হতে পারে ন্যূনতম আয়কর
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৯ নভেম্বর ২০২৩
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বাঁচাতে হলে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে।আজ সোমবার ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে কিছু বিদেশি দেশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ওপর তাদের থাবা বাড়াচ্ছে।সিইসি বলেন, 'কয়েকটি দেশকে বাদ দিলে বেশিরভাগ দেশই সত্যিকারের সার্বভৌম নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে নির্দেশ দিতে পারে, আমরা সেভাবে করতে পারি না।'তিনি বলেন, 'আমাদের নির্বাচনে কিন্তু বাহির থেকেও থাবা এসে পড়েছে। তারা থাবা বিস্তার করে রেখেছে। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের অনেককিছুই রক্ষা করতে হলে এই নির্বাচনটাকে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল করতে হবে।'তিনি বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে দেশ 'সংকটে' রয়েছে। আস্থা নিয়ে সন্দেহ আছে, আমাদের তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করা উচিত।'সিইসি বলেন, সম্প্রতি খুব কষ্ট পেয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং লক্ষ্মীপুরে সিল মারা হয়েছে। আমরা সেখানে প্রতিহত করতে পারিনি। আমাদের প্রশাসন পারেনি। আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তারা পারেনি। এটা লজ্জাকর। তবে এই সিল মারাটাও কিন্তু আমাদের নির্বাচনের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে গেছে। এটা মন্দ সংস্কৃতি। পেশিশক্তি ব্যবহার করা, কালো টাকা ব্যবহার করা এবং এই ধরনের কারচুপি করা দীর্ঘদিন ধরে চর্চার মাধ্যমে একটা অপসংস্কৃতির চর্চা হয়ে গেছে। ক্রমান্বয়ে আমাদের এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা নিরন্তর চেষ্টা করছি।'আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়েছি নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। এজন্য সকলের আন্তরিক ও সাহসি সহায়তা আমাদের লাগবে,' বলে জানান সিইসি।তিনি বলেন, 'আমরা আশা করব আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলে চোখকান খোলা রেখে, সৎভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং আপনারা যারা ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে কাজ করবেন তাদেরও ব্যাপক দায়িত্ব রয়েছে।'
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ নভেম্বর ২০২৩
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দেশটির বিরোধী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।এইচআরডব্লিউর বিবৃতিটি সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষভাবে সহিংসতার সব ঘটনা তদন্ত করা। এর মধ্যে এমন সব ঘটনাও আছে, যে ক্ষেত্রে এক পক্ষ অপর পক্ষকে দোষারোপ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি পূর্বপরিকল্পিত সমাবেশের পর থেকে প্রায় ১০ হাজার বিরোধী নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলমান সহিংসতায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষ।এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক জুলিয়া ব্লেকনার বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক অংশীদারদের কাছে দাবি করছে, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিরোধীদের দিয়ে কারাগার ভরছে।জুলিয়া ব্লেকনার আরও বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক অংশীদারদের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত যে সরকারের কর্তৃত্ববাদী দমন–পীড়ন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিপন্ন করবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৭ নভেম্বর ২০২৩
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ওয়েবসাইট ও স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল প্রকাশ করা হয়। এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটোই কমেছে।প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছর ২০২২ সালে পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।অন্যদিকে, এ বছর ১১টি শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সাড়ে ১৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৩৬৫ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। সেই হিসাবে এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮৩ হাজার ৯১৭ জন।রোববার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ওয়েবসাইট ও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বোর্ড চেয়ারম্যানরা।এদিকে, দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।গত ১৭ আগস্ট দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম, মাদরাসা ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয় ২৭ আগস্ট।এ বছর ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড ১১টি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৫ জন।এবার পূর্ণ নম্বরের প্রশ্নপত্র ও পূর্ণ সময়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে আইসিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৭৫ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ নভেম্বর ২০২৩
চলতি নভেম্বরেই বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাবে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলোতে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। এর প্রভাব না কাটতেই নতুন এক ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা এলো।ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে চলেছে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়, যার নাম মিগজাউম। এর কবলে প্রভাবিত হতে পারে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের উপকূল।এ বিষয়ে ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যা আগামী সোমবার আরও কিছুটা গভীর হয়ে অতি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবহাওয়াবিদ সৌরিশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রোববার (২৬ নভেম্বর) দক্ষিণ আন্দামান সাগরের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। যা পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত। সেই সম্ভাব্য নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে সোমবার (২৭ নভেম্বর) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।’দ্য মিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে মৌসুমি বৃষ্টি সাধারণত সাইক্লোন সংখ্যা বাড়ানোর অনুকূলে কাজ করে। নভেম্বরের মৌসুমি বৃষ্টি পরবর্তী সময়ের আবহাওয়া পরিস্থিতিতেও একই ভূমিকা রাখে। সাধারণত এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সময়ে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বঙ্গোপসাগরে এ ঝড় সৃষ্টি হওয়ার মতো অবস্থা বিরাজ করছে। যে নিম্নচাপ তৈরি হবে, সেটা কি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, ওই সম্ভাব্য গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে কি না— সে বিষয়ে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে মডেল অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শুরুতে একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত ওই সম্ভাব্য নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে সেটির নাম হবে মিগজাউম।বঙ্গোসাগরে চলতি বছর এ ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হলে সেটির নাম হবে মিচাহং, তবে উচ্চারণ করতে হবে মিগজাউম। মিয়ানমার এই নাম প্রস্তাব করেছে। তবে স্থানভেদে ঘূর্ণিঝড়ের এ নাম পরিবর্তন হতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৩ নভেম্বর ২০২৩
বাংলাদেশে সহিংস পন্থায় শ্রমিক আন্দোলন দমনে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে বাংলাদেশে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়ন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয় সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আলাদা করে কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ নভেম্বর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শ্রম অধিকার নীতি ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শ্রম অধিকার নীতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন, যারা শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন করবে, হুমকি দেবে বা শ্রমিকদের ভীতি প্রদর্শন করবে তারা প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস কর্মী নেত্রী কল্পনা আক্তারের সংগ্রামের কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধি আন্দোলনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাঁচজন গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কি কোনও ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে?জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তৃতা থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকারের সুরক্ষা এবং প্রসারে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিশ্বজুড়ে সরকার, শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ এবং প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র তার এই তৎপরতা অব্যাহত রাখবে। আপনার প্রশ্নের জবাবে আমি আবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরো বিবৃতির বিষয়েই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করব।বাংলাদেশে শ্রমিকদের বিক্ষোভে প্রাণহানি এবং সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এই মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে সহিসংতা, শ্রমিক এবং ট্রেড ইউনিয়নের বৈধ কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো বিষয়গুলোতে আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়ন নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের মূলনীতি হলো- কোনও ধরনের সহিসংতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ও ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই শ্রমিকরা যাতে স্বাধীনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং মালিকপক্ষের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারে সেই অধিকার সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।এছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল জায়গায় এই মৌলিক মানবাধিকারগুলো নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন মিলার।পরে ওই সাংবাদিক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, বিরোধী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা, গণগ্রেপ্তার এবং অপহরণসহ বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শাসক দল আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপের আহ্বানও প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু বাংলাদেশে এক দলের ওপর অন্য দলকে প্রাধান্য দেয় না, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এই একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমরা এক দলের ওপর অন্য দলকে প্রাধান্য দেই না। বাংলাদেশিরা নিজেরাই যা চায়, আমরাও তাই চাই। আর তা হচ্ছে: শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।তিনি বলেন, সরকার, বিরোধীদল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাদেরকে আহ্বান জানাবো যেখানে তারা যেন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে কাজ করে, যাতে করে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।পরে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে নিঃশর্ত সংলাপের জন্য চিঠি লিখেছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। ত্রিশের বেশি রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছে যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। শুধু বিরোধী দল বিএনপিই বয়কটের ডাক দিয়েছে। ৩০ টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কী যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিত্বশীল এবং অংশগ্রহণমূলক বলে বিবেচনা করবে, নাকি বিএনপির নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি এবং বৈধতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়াবে?জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি আপনার প্রশ্নের প্রশংসা করি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে আমাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তেমন কিছু করা থেকে আমি বিরত থাকব। আমি আগেই যেমন বলেছি, বাংলাদেশে আমাদের লক্ষ্য বরাবরের মতো একই রয়েছে। আর তা হচ্ছে, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা যা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২১ নভেম্বর ২০২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৩ উপলক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।প্রধানমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার পেশ করে।পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে সংরক্ষিত দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে পৌঁছলে ৩ বাহিনীর প্রধানরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান এবং সেখানে ৩ বাহিনীর প্রধানরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ চালায়, যা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর এই ঐতিহাসিক দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ২১ নভেম্বর ২০২৩
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘স্যাংশনের দেশ’ অভিধা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা তো একদিনে আমেরিকা হতে পারব না। আমাদের ইচ্ছে আছে ওনাদের মতো ভালো হওয়ার, কিন্তু আমরা একদিনে হতে পারব না।রোববার (১৯ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অধিকার ও তাদের মান উন্নয়ন নিয়ে সম্প্রতি একটি নতুন স্মারকপত্র স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্মারকপত্র প্রকাশের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তার বক্তব্যে কল্পনা আক্তার নামে বাংলাদেশের এক গার্মেন্টস শ্রমিক ও নেত্রীর কথা উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা।জবাবে মোমেন বলেন, ওরা স্যাংশনের দেশ। ওরা দিতে পারে। ওরা বড় লোক। কিন্তু আমরা আমাদের মতো কাজ করব। বাস্তবতার নিরিখে আমরা কাজ করব। আমরা তো একদিনে আমেরিকা হতে পারব না। ওনারা (যুক্তরাষ্ট্র) যাদের টাকাটুকা দিয়ে রাখে তারা মনে করে একদিনে বাংলাদেশ আমেরিকা হয়ে যাবে। হঠাৎ করে ওনারা বড় লোকের কথা বললে তাজ্জবের বিষয় মনে হয়।আমেরিকার শ্রমিক ইতিহাস টেনে ড. মোমেন বলেন, আমেরিকার এ অবস্থায় আসতে আড়াইশ বছরের মতো সময় লেগেছে। আমেরিকাতে একসময় শ্রমিকরা ক্রীতদাস ছিল। আব্রাহাম লিংকনের সময় এটা বাদ পড়ে। এটা বাদ পড়ায় আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ হয়। ১৯ শতকের শুরুতে আমেরিকায় প্রতিটি শ্রমিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করত। ২০ সেন্ট মাত্র মজুরি পেত। সেই ইতিহাস তো আমরা ভুলিনি।আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে আমরা জানি। সে দিক থেকে আমাদের শ্রমিকরা আমেরিকার তুলনায় অনেক ভালো আছে। এখন তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) জনপ্রতি আয় ৬৫ হাজার ডলার। আর আমার ২ হাজার ৮০০ ডলার। সেই তুলনায় আমার শ্রমিকরা অনেক ভালো আছে। তাদের আমাদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা উচিত।যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসবে কি না— জানতে চাইলে মোমেন বলেন, আমি জানি না। এটা অন্য দেশের এখতিয়ার।
নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ নভেম্বর ২০২৩