জাতীয়


মিরপুরে ফের সড়কে ক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকরা, যান চলাচল বন্ধ

মিরপুরে ফের সড়কে ক্ষুব্ধ পোশাক শ্রমিকরা, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর মিরপুরে আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছে পোশাক শ্রমিকরা। এতে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিকশাও এ পথে চলতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদের ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পোশাক শ্রমিকরা মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরে অবস্থান নেয়। এ সময় এ এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল ৯টায় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে ১৪ নম্বরের দিকে চলে যায় তারা।এ সময় কয়েকটি গার্মেন্টসের ফটক ভাঙচুর করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে আবার মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের দিকে যায়।গার্মেন্ট শ্রমিক ইমতিয়াজ বলেন, শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মিরপুর ১১ নম্বরে অবস্থান নিয়েছে। এখন তারা সেখানেই জড়ো হবেন।সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয় তিনি বলেন, তাদের আন্দোলনের বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে দুটি টেলিভিশন চ্যানেল। সেকারণে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০১ নভেম্বর ২০২৩


‘যদি ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন ডায়ালগ করে, আমিও করব’

‘যদি ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন ডায়ালগ করে, আমিও করব’

খুনিদের সঙ্গে কিসের সংলাপ, সে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সময়মতোই নির্বাচন হবে। কে চোখ রাঙাল আর কে চোখ বাঁকাল, তা নিয়ে পরোয়া করেন না।ব্রাসেলসে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানাতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত শর্তহীনভাবে সংলাপের আশা প্রকাশ করেছেন। আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কার সঙ্গে সংলাপ? বিরোধী দলটা কে? বিরোধী দল হচ্ছে, যাদের সংসদে আসন আছে। এর বাইরেরগুলো আমেরিকায়ও বিরোধী দল হিসেবে দেখে না। ট্রাম্পকে তারা কী বলবে? তারা তো তাদের বিরোধী দল। যদিও আমরা তাদের পদ্ধতিতে না।’এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংসতার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এই যে মানুষগুলো হত্যা করা হলো, তখন তাঁকে (পিটার হাস) প্রশ্ন করা হলো না কেন? যখন একটা উপনির্বাচনে হিরো আলমকে কেউ মেরেছে, তখন তাঁরা বিচার দাবি করেছে। এখন যখন পুলিশ হত্যা করল, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করল তখন বিচার দাবি করল না কেন?’শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেভাবে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে, এরপর খুনিদের সঙ্গে কিসের বৈঠক? কিসের আলোচনা? যারা এভাবে মানুষকে হত্যা করতে পারে, যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধ্বংস করতে পারে, তাদের সঙ্গে ডায়ালগ? সে বসে ডিনার খাক, সে বসে ডায়ালগ করুক। এটা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। খুনিদের সঙ্গে ডায়ালগ তার দেশের মানুষও চাইবে না। বিএনপি–জামায়াতকে মানুষ ঘৃণা করে। তাদের দুর্নীতির জন্য কানাডা থেকে লোক এসে সাক্ষ্য দিচ্ছে।’২৮ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এখন তারা চুপ কেন? অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো এখন চুপ কেন? তাদের মানবিক বোধগুলো গেল কোথায়?’ দেশের বুদ্ধিজীবীরা চুপ কেন, সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কোন বিদেশি শক্তি আমাদের রাজনীতিতে চোখ রাঙাচ্ছে? নির্বাচন নিয়ে নানাজন নানা মন্তব্য করছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন হবে এবং সময়মতোই হবে। কে চোখ রাঙাল আর কে চোখ বাঁকাল, ওটা নিয়ে পরোয়া করি না।’ দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু ঢাকার উন্নয়ন নয়, গ্রামেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে।ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবেও সংলাপ নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা খুন করার পরও বলে, ডায়ালগ করতে হবে। কার সঙ্গে ডায়ালগ করতে হবে? ট্রাম্প সাহেবের সঙ্গে কি বাইডেন ডায়ালগ করতেছে? যেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেন ডায়ালগ করবেন, সেদিন আমি করব।’সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজন করে। এ কর্মসূচি উপলক্ষে সারা দেশ থেকে দলটির নেতা–কর্মীরা নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় সমবেত হন। তবে ওই দিন বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের এক সদস্য এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের এক নেতা নিহত হন। সংঘর্ষের কারণে বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। পরদিন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের গ্রপ্তার অভিযানের মুখে আত্মগোপনে গেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। এর মধ্যেই আজ থেকে সারা দেশে বিএনপির সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠক শেষ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কোনো পক্ষের সংঘাতের জায়গা নেই। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রশমন এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ খুঁজতে সব পক্ষ শর্তহীন সংলাপে বসবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩১ অক্টোবর ২০২৩


গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, মহাসড়ক অবরোধ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, মহাসড়ক অবরোধ

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক বাজার এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করা হয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকেরা ফাঁড়ির ফটক, কার্যালয়ের কাচ ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, কয়েক হাজার শ্রমিক মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে মৌচাক বাজার এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কে ১০-১২টি যানবাহন ভাঙচুর করেন তাঁরা। শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ তাঁদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে শত শত শ্রমিক ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ মৌচাক বাজার এলাকায় অবস্থিত কালিয়াকৈর থানাধীন পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালান।সাত দিন ধরে শ্রমিকদের অসন্তোষের কারণে আজ থেকে গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কারখানা বন্ধ থাকলেও আজ সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৩ অক্টোবর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে অবরোধ শুরু করেন। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে শ্রমিক বিক্ষোভ গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর নাওজোর, ভোগরা, চান্দনা চৌরাস্তাসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিএনপির ডাকা অবরোধের মধ্যে স্বল্প পরিমাণ যানবাহন চলাচল করলেও শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সকাল সাড়ে আটটা থেকে সেগুলোর চলাচল বন্ধ আছে। বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকেরা নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন।আজ সকালে কোনাবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার সবচেয়ে বড় কারখানা তুসুকা গ্রুপের প্রধান ফটকে বড় একটি ব্যানার ঝুলছে। এতে লেখা আছে, ‘অনিবার্য কারণে কারখানার সব কার্যক্রম আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে’, একই এলাকার এম এম নেটওয়ার্ক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শুধু মঙ্গলবারের জন্য। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি কারখানার সামনে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই খুলে দেওয়া হবে।গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার তুসুকা গ্রুপের নিটিং সেকশনের শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বেতন দেওয়া হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এই টাকায় আমাদের সংসার চলছে না। ঘরভাড়া দেওয়ার পর যা থাকে, তা দিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছি। এখন আমাদের দাবি, সর্বনিম্ন বেতন ২৩ হাজার টাকা দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩১ অক্টোবর ২০২৩


২৮ অক্টোবরের ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র

২৮ অক্টোবরের ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্র

গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে প্রাণঘাতী সেই সহিংসতার ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।এছাড়া সহিংসতার মধ্যে পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মী হত্যা এবং বাস ও হাসপাতালে আগুন দেওয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।এছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ অক্টোবর) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক ম্যাথিউ মিলারের কাছে গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিরোধীদের মহাসমাবেশে হামলা এবং সহিংসতা সম্পর্কে আমরা গত সপ্তাহান্তে আপনার বক্তব্য দেখেছি। এই সহিংসতা মূলত পুলিশ দিয়ে এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সংঘটিত হয়। আর এরপর থেকে পুলিশ প্রধান বিরোধীদল বিএনপির মহাসচিবসহ শতাধিক বিরোধী রাজনীতিক, বিরোধী দলের নেতাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে?জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে আমরা তার নিন্দা জানাই। একজন পুলিশ সদস্য, একজন রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার ঘটনা এবং হাসপাতাল ও বাসে আগুন দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকসহ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাও অগ্রহণযোগ্য। ২৮ অক্টোবরের সমাবেশে যেসব ঘটনা ঘটেছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত এবং সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে আমরা কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করছি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সবার। ভোটার, রাজনৈতিক দল, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম; সবারই এই দায়িত্ব রয়েছে।পরে ওই সাংবাদিক ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর সরকারের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, সরকারপন্থি গণমাধ্যম ও তাদের সমর্থকরা বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেছে। এই প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, সরকার মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করছে। আপনারা কি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার অনুমতি দিচ্ছেন?জবাবে মিলার বলেন, আমি শুধু বলব, কূটনীতিকরা বিভিন্ন ধরনের ও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে থাকেন। এর মধ্যে সুশীল সমাজ ও সংস্থা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষাবিদসহ অন্যান্য অনেক ধরনের সংস্থা এবং ব্যক্তিও রয়েছেন। কূটনীতিকরা তাদের দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবেই এটি করেন এবং আমরা সেটি চালিয়ে যাবো।পরে জ্যাকব মিল্টন নামে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত সশস্ত্র ক্যাডাররা পেট্রোল বোমা ও গানপাউডার ব্যবহার করে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে। এসময় সরকারি সম্পত্তির পাশাপাশি জনগণের সম্পত্তিও ধ্বংস করে। সেই ক্ষমতাসীন দল বলছে, বিরোধী দলের কর্মীরা ওই হামলা করেছে। তারা গত ১৪ বছর ধরেই এটি করছে। আমি মনে করি আন্তর্জাতিকভাবে সবাই স্বীকার করেছে, এ সমস্ত হামলা— সেটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলুন বা যেটাই বলুন, ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডার ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ কিছু মানুষ করছে। আর তাই আমেরিকার কি তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার কোনও পরিকল্পনা আছে?জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশ সম্পর্কিত পূর্ববর্তী প্রশ্নের উত্তরে আমি যা বলেছি তা এখানেও প্রযোজ্য। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজন হলে আমরা পদক্ষেপ নেব এবং আমি কখনোই সেগুলো নিয়ে আগে থেকে এখানে কথা বলব না।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ৩১ অক্টোবর ২০২৩


এখনও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ হয়ে ওঠেনি : সিইসি

এখনও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ হয়ে ওঠেনি : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা নিরসনে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের প্রত্যাশা আয়োজক হিসেবে নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। প্রত্যাশা প্রথম থেকেই ছিল, কিন্তু এখনও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশটুকু হয়ে ওঠেনি।বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে এক কর্মশালার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এ কথা বলেন সিইসি।সিইসি বলেন, আমাদের বিষয়টা হচ্ছে, আন্তরিক যে পরিবেশ সেটা অনুকূল হয়ে উঠুক। এজন্য সবাইকে নিরন্তর আহ্বান করে যাচ্ছি, সংলাপ করেছি। যারা নির্বাচনে আসতে চান না তাদের আমার পক্ষ থেকে আধা সরকারিপত্র দিয়েছি। কিন্তু সাড়া পাইনি।তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তাদের নিজস্ব কৌশল থাকতে পারে। আমরা তার মধ্যে অনধিকার চর্চা করব না।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২৬ অক্টোবর ২০২৩


'কোনো ধরনের দুর্বৃত্তপনায় জড়ালে কিন্তু ছাড় দেব না'

'কোনো ধরনের দুর্বৃত্তপনায় জড়ালে কিন্তু ছাড় দেব না'

আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বিএনপি-জামায়াত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতসহ আরও অনেকেই মাঠে নামতে চায়। আন্দোলন করুক, এই ব্যাপারে আমাদের কোনো কথা নাই। কিন্তু তারা যদি আবার ওই রকম অগ্নি সন্ত্রাস বা কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করে বা কোনো ধরনের দুর্বৃত্তপনায় জড়ায় আমরা কিন্তু ছাড় দেব না। এটাই বাস্তবতা।’ প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার নবনির্মিত ১৫ তলা বিশিষ্ট বার কাউন্সিল ভবন উদ্বোধন পরবর্তী আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এর আয়োজন করে। এর আগে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবন উদ্বোধন করেন।সরকারপ্রধান সে সময় দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাসের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন এই বিএনপি আমাদের কত নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। চোখ তুলে নিয়েছে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে তাদের হাড় গুড়গুড়ে করে হত্যা করেছে। এরপর আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্ট করল ২০১৩,১৪ ও ১৫ সালে অগ্নি সন্ত্রাস করে। তারা সে সময় ২৯ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ৩ হাজার ২২৫ জন লোককে অগ্নিদগ্ধ করেছে, ৫ শ’ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ৩৮৮টি গাড়ি, সাধারণ মানুষের প্রাইভেট কার, সিএনজি, ২৯টি রেল,৯টি লঞ্চে অগ্নিসংযোগ করেছে। চলমান প্রাইভেট গাড়ি, বাস ও ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে মানুষ হত্যা করেছে।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে যারা জড়িত জেলায় জেলায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং মামলা চলমান রয়েছে সে মামলাগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। আইনজীবী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে এটা আমার অনুরোধ। কারণ, এদের যদি সাজা না দেওয়া যায়; এরা এত অন্যায় করেছে যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই সব থেকে বেশি নির্যাতিত। তাহলে তাদের শাস্তি হবে না কেন?’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব অপরাধীর মামলা কেবল চালালেই হবে না, তারা যেন যথাযথ শাস্তি পায় তার ব্যবস্থা আপনাদের করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিচারহীনতা যেন এদেশে আর না চলে। তিনি জাতির পিতা হত্যা এবং ৩ নভেম্বরের জেলহত্যার বিচার করতে পারায় মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করেন। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত অভিযোগ করে তিনি জিয়াকে এর ‘বেনিফিশিয়ারি’ বলেও উল্লেখ করেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে যেটা আগে করেছিল। সেটা যেন আর করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমার একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে, কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকে। যে যা পারেন তাই উৎপাদন করেন।’অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধুর আইনি দর্শন’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং পরে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন।আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ২১ অক্টোবর ২০২৩


বায়ুদূষণে বিশ্বের ১০৯টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়

বায়ুদূষণে বিশ্বের ১০৯টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১০৯টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। আইকিউএয়ারের বাতাসের মানসূচকে (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স-একিউআই) এ সময় ঢাকার স্কোর ছিল ১৮১। বাতাসের এ মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গতকাল বুধবার এ সময় বায়ুদূষণে শীর্ষে থাকা ঢাকার স্কোর ছিল ১৮২।আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল ইরাকের বাগদাদ নগর। শহরটির স্কোর ২২২।বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এ লাইভ বা তাৎক্ষণিক একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং সতর্ক করে।আইকিউএয়ারের দেওয়া আজকের তালিকায় বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই (পিএম ২.৫) দূষণের প্রধান উৎস। আজ ঢাকার বাতাসে যতটা এই বস্তুকণা আছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের চেয়ে ২২ গুণের বেশি।আইকিউএয়ারের বায়ু নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূষণ থেকে রক্ষা পেতে আজ ঢাকাবাসীর জন্য পরামর্শ, বাইরে বের হলে মাস্ক পরে বের হবেন, সেটি দূষণ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দিতে পারে।আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।বায়ুদূষণ বেশি হলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে আছে বয়স্ক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা, জটিল রোগে ভোগা ব্যক্তি। তাঁদের বিষয়ে বিশেষ যত্নবান হওয়া দরকার বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে, তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়।৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। ঢাকায় গত জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক দিন দুর্যোগপূর্ণ বাতাসের মধ্যে কাটিয়েছে নগরবাসী। জানুয়ারির মোট ৯ দিন রাজধানীর বাতাসের মান দুর্যোগপূর্ণ ছিল, যা গত ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ অক্টোবর ২০২৩


আজ ১৫০ টি সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আজ ১৫০ টি সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১৫০ সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।১৫০ সেতুর পাশাপাশি ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত ১৪টি ওভারপাস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।এর বাইরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ মিরপুর ভেহিকল ইন্সপেকশন সেন্টার ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ডিটিসিএ নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি।একই সঙ্গে ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী ও রহমতপুর সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৯ অক্টোবর ২০২৩


সর্বাধিক পঠিত

এপিজে আবদুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডিএমপি কমিশনার

এপিজে আবদুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডিএমপি কমিশনার

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কেএন রায় নিয়তি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।সম্প্রতি হাওড়ার শরৎ সদনে এপিজে আবদুল কালাম ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডের আসর বসে। সেখানে ১৫ দেশের বিভিন্ন পেশার ১৫ জন কৃতী ব্যক্তিত্বকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। ডিএমপি জানায়, সম্প্রতি তার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ‘ঠার, বেদে জনগোষ্ঠীর ভাষা’। বইটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে পাঠক মহলেও। এই অসামান্য গ্রন্থের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে তিনি শেষমুহূর্তে কলকাতায় পৌঁছাতে পারেননি। তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোমনাথ দে। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন নেপালের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি প্রেমানন্দ ঝা। এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দুই বিশিষ্ট মন্ত্রী জাভেদ খান ও অরূপ রায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৭ অক্টোবর ২০২৩


জাতির পিতা সবসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন : প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা সবসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন। তিনি এ দেশে নারীদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার পর যে সংবিধান দিয়েছিলেন, সেখানে কিন্তু নারীর সমঅধিকারের কথা বলা আছে। নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। নারী নেতৃত্ব যাতে গড়ে ওঠে, তার জন্য পার্লামেন্টে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন।মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে নবনির্মিত ‘জয়িতা টাওয়ার’ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গণভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার পর তিনি জয়িতা টাওয়ারের উদ্বোধন করেন। এসময় বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা সঙ্গে ছিলেন।শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মেয়েদের ওপর বিএনপির অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছিল। আমাদের যুব মহিলা লীগের মেয়ে, আমাদের আওয়ামী লীগের মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার তারা করেছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। গ্রেপ্তার করা, থানা নিয়ে আটকানো, নানাভাবে তাদের নির্যাতন করা হয়। এর প্রতিবাদ আমাদের মেয়েরা করে গেছে। আমাদের পুরুষরা যখন রাস্তায় নামতে পারেনি, তখন আমাদের যুব ও আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা সাহসের সঙ্গে রাস্তায় নেমেছে। যার ফলে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।তিনি বলেন, জাতির পিতা বিশ্বাস করতেন, সমাজের অর্ধেক হচ্ছে নারী, তাদের অবহেলিত রেখে একটি সমাজ গড়ে উঠতে পারে না। নারীরা শুধু আমাদের অধিকার দাও বললে চলবে না, নারীদের অধিকার নারীদের আদায় করে নিতে হবে। নারীদের অধিকার নিজের গুনে অর্জন করতে হবে।নারীরা পিছিয়ে থাকবে না জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বেগম রোকেয়া আমাদের প্রথম শিক্ষা দিয়ে গেছেন। নারী শিক্ষায় বেগম রোকেয়ার যে অবদান, তিনি স্বপ্ন দেখতেন নারীরা একদিন জজ, ব্যারিস্টার হবেন। আজ আমাদের দেশের নারীরা জজ-ব্যারিস্টার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে আপন স্থান করে নিয়েছে এবং নিতে পেরেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড, প্রতিটি জায়গা আমাদের নারীরা যাতে সমসুযোগ পায়, আমি ’৯৬ সালে সরকারে এসে সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আমাদের উচ্চ আদালতে কোনো মহিলা জজ ছিল না, আজ উচ্চ আদালতে আমাদের নারীরা স্থান পেয়েছে। কোনো সচিব ছিল না, কোনো জেলায় ডিসি করা হতো না। আমি সরকারে আসার পর নারীরা ওসি হয়েছে, এসপি হয়েছে, বিভিন্ন পদ তারা পেয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৭ অক্টোবর ২০২৩


আমরা মানুষকে সেবা দিচ্ছি কে কোন দল করে বিবেচনা করি না : প্রধানমন্ত্রী

আমরা মানুষকে সেবা দিচ্ছি কে কোন দল করে বিবেচনা করি না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা সেবা দিচ্ছি মানুষকে। এ ক্ষেত্রে কে কোন দল করে, বিবেচনা করি না। সবাইকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের চিন্তার দৈন্যতা আছে। যার কারণে এরা মানসিক দৈন্যতায় ভোগে। এরা ভালো কিছু চিন্তা করতে পারে না।দেশের ৬৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি আই সেন্টার’ উদ্বোধন করে আজ সোমবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আই সেন্টার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা শুধু চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না, একটা মানুষকে দেখার সুযোগ দিচ্ছেন, এটা অনেক বড় কাজ।সরকারপ্রধান বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের অবহেলা না হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি। বিশেষ করে, অন্ধজনের বিলাও আলো, এ কাজটা করছি। সারা বাংলাদেশে অন্ধত্ব দূর করতে মানুষকে সেবা দিচ্ছি। অন্ধত্বের হার ৩৫ শতাংশ কমিয়েছি। আরও কমাতে কাজ করছি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০ লাখ মানুষ কমিউনিটি আই সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির হাহাকার অনেক জায়গায়। আমরা ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে উদ্বৃত্ত থাকলে রপ্তানি করতে পারব। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা অনেক ভর্তুকি দিই। এটারও ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। পাশাপাশি নদী-খাল-বিল— সব কিছু যেন দূষণমুক্ত হয়, খেয়াল রাখবেন। যে কোনো প্রকল্প প্রণয়নে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখবেন। জলাধার রাখবেন।সরকারপ্রধান আরও বলেন, মানুষের জীবনের চাহিদা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা, সেই সঙ্গে সঙ্গে সড়ক যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রে ২০০৯ সাল থেকে উন্নয়ন করেছি। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলে এগুলো করতে পেরেছি। এ জন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৬ অক্টোবর ২০২৩


খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না : শেখ হাসিনা

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না : শেখ হাসিনা

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সে পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা নিয়ে চলতে চেয়েছিল।শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।সরকারপ্রধান বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা নিয়ে চলতে চেয়েছিল। সে জাতির পিতার হত্যাকারীকে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিল। আর আল বদর, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মা বোনকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে দিয়েছে, তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। জিয়াও বসিয়েছিল, এরশাদও, খালেদা জিয়াও। কাজেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এদের কোনো অবদান নেই। তারা সেটা করতেও চায় না। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়।আওয়ামী লীগ অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে একটা দেশের যে উন্নতি হয়, যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে তারা ক্ষমতা থাকলে যে দেশের জন্য উন্নতি হয়, আজ আমরা সেটা প্রমাণ করেছি।তিনি বলেন, ’৭৫ এর পর ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল– জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ খালেদা জিয়া থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, এই ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা দেশের জন্য কী করেছে? মানুষের জন্য কী করেছে? মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কী করেছে? সেটা একবার চিন্তা করে দেখবেন। অনেকে বড় বড় কথা বলেছে, দেশের মানুষের জন্য তারা কী করেছে?আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ’৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, বিদ্যুৎ ছিল মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুতের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে কানসাটে মানুষকে গুলি খেতে হয়। ঢাকা শহরে পানির অভাব, বিদ্যুতের অভাব ছিল। মানুষ বিদ্যুৎ ও পানির জন্য আন্দোলন করেছিল। বিএনপির এক নেতাকে পাবলিক ধাওয়া দিয়েছিল, নামই হয়ে গিয়েছিল দৌড় সালাউদ্দিন। পাবলিকের ধাওয়া খেয়ে সে পালিয়েছিল। খালেদা জিয়া চাহিদা পূরণ করতে পারেনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৪ অক্টোবর ২০২৩


কাওলা জনসভামঞ্চে শেখ হাসিনা

কাওলা জনসভামঞ্চে শেখ হাসিনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীর কাওলায় ক্ষমতাসীন দলের জনসভা চলছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ জনসভাটি গত ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তারিখ পরিবর্তন হয়। ফলে আজ (শনিবার) কাওলায় হচ্ছে জনসভা।জনসভা উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন শাখা ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন কাওলা মাঠে। দুপুর ২টার আগেই জনসভার মাঠ প্রায় ভরে যায়। রোদের মধ্যে আশপাশের এলাকায় গাছের ছায়ায় অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। তার অনুসারীদের টি-শার্ট ও ক্যাপ, ব্যানার ফেস্টুনসহ নানা সাজে সাজিয়ে মিছিল নিয়ে এসেছেন। সভাস্থলে প্রার্থীদের ছবি হাতে সমর্থন জানান দিতে দেখা গেছে।জনসভায় উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ওবায়দুল কাদের, শাজাহান খান, বাহাউদ্দিন নাসিম, হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১৪ অক্টোবর ২০২৩


সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ডিসি-ইউএনওদের নতুন গাড়ি কি জরুরি?

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ডিসি-ইউএনওদের নতুন গাড়ি কি জরুরি?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস তিনেক আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য ২৬১টি নতুন গাড়ি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে প্রায় দেড় কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে ৩৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।নির্বাচনের সময় সাধারণত ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনওরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনের সব দায়িত্ব ও ক্ষমতা মূলত তাঁদের হাতে থাকে। এই কর্মকর্তাদের জন্য কেনা হচ্ছে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি), যা জিপ নামে পরিচিত।ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গত বুধবার গাড়িগুলো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থাৎ দরপত্র ছাড়া গাড়িগুলো কেনা হবে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন। এমন সময়ে গাড়িগুলো কেনার সিদ্ধান্ত হলো যখন সরকার টাকার সংকটে রয়েছে। মার্কিন ডলারের সংকট চলছে। সরকার বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকির টাকা যথাসময়ে ছাড় করতে পারছে না। ডলার–সংকটে বিদেশ থেকে আসা বিদ্যুতের দাম বকেয়া থাকছে। বিদেশি কোম্পানির গ্যাসের দামও যথাসময়ে দিতে পারছে না সরকার।অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাধারণত সাংবাদিকদের অবহিত (ব্রিফ) করা হয়। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম ‘অনিবার্য কারণবশত’ অবহিত করা হবে না বলে আগেই জানিয়ে দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যে কর্মকর্তা অবহিত করেন, তাঁর অন্য কাজ থাকায় সেটা করা হয়নি। তবে সূত্র বলছে, গাড়ি কেনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে অবহিত করার অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।সাধারণত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। তিনি বৈঠকটিতে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল রাতে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি কেনার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।’ এর বাইরে কিছু বলতে চাননি তিনি।অবশ্য গতকাল রাতে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িগুলো আগেই কেনার দরকার ছিল। আর নির্বাচনের সময় আসলেই গাড়ির দরকার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যই তা দরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে এগুলো কেনা হবে।কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য নতুন গাড়ি না কেনার নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যে অর্থ বিভাগ, তারাই এখন নতুন গাড়ি কেনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গাড়ি কেনার দরকার না থাকলে অর্থ বিভাগ মত দিত না। সংকট আছে এটা যেমন সত্য, গাড়ি কেনার দরকার, এটাও সত্য।’আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যই গাড়িগুলো কেনার দরকার বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগকে জানিয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করা, ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ মাঠ পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন পরিবহনসেবা নিশ্চিতে নতুন গাড়িগুলো দরকার। বর্তমানে যেসব গাড়ির আয়ুষ্কাল ১৩ বছর বা তারও বেশি হয়েছে, সেগুলোর পরিবর্তেই নতুন গাড়ি দেওয়া হবে।আগামী নির্বাচনের আগে গত মাসে সরকার উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ২২১ জনকে পদোন্নতি দিয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে, যা নির্বাচনের আগেই হবে বলে জানা গেছে। প্রশাসনে পদ না থাকলেও এসব পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে সরকার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পছন্দের কর্মকর্তাদের ডিসি ও ইউএনও হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রশাসন সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করছে মাঠের বিরোধী দলগুলো।যোগাযোগ করা হলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলা কথা নয়, গাড়ি কেনার দরকার হলে সরকার কিনবে। কিন্তু এখন যেহেতু সংকটের সময় চলছে, যেকোনো কিছু কেনাকাটার ক্ষেত্রেই সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।’মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এসব গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয় গত ১২ জুন। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর প্রথমে চাহিদার কথা জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। পরের মাস জুলাইয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠায় অর্থ বিভাগে।তৎকালীন অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ইতিবাচক মত দেওয়ার পর বিষয়টি এগোয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরপর তা অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। পরের ধাপে গাড়ি কেনার প্রস্তাব যাবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে।জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে আর তিন মাসের মতো বাকি। এ সময়ে বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে ক্রয়াদেশ দিতে হবে। এরপর প্রগতি গাড়ি দেবে।এ সময়ের মধ্যে গাড়ি সরবরাহ করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) আবদুল হালিম বলেন, তা সম্ভব। তবে সময় যেহেতু কম, সরকারের উচিত হবে দ্রুততম সময়ে ক্রয় আদেশ দেওয়া।ডিসি ও ইউএনওদের জন্য যেসব গাড়ি কেনা হবে, সেগুলোর মডেল হলো ‘মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্ট কিউ এক্স’। ডিসিদের জন্য কেনা হবে ৬১টি ও ইউএনওদের জন্য ২০০টি।অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডিসিদের ব্যবহারের পাশাপাশি ডিসি কার্যালয়ের জন্যও গাড়ি চেয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বলেছিল, ডিসি ও ডিসি কার্যালয়ের জন্য ৯৬টি ও ইউএনওদের জন্য ৩৬৫টি অর্থাৎ মোট গাড়ি লাগবে ৪৬১টি। এতে ব্যয় হবে ৬১২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ পুরো প্রস্তাবে রাজি না হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পথ বাতলে দেয় এবং নতুন করে আবেদন করতে বলে।অথচ কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলে নতুন গাড়ি কেনায় বিধিনিষেধ জারি করেছিল অর্থ বিভাগই। গত ২ জুলাই সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের যানবাহন ক্রয় (মোটরযান, জলযান, আকাশযান) বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশনা জারি করা হয়। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর নতুন কোনো গাড়ি কেনেনি।একই সঙ্গে পরিচালন বাজেটের আওতায় মোটরযান, জলযান, আকাশযান খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়। এ–ও বলা হয়, ‘১০ বছরের বেশি পুরোনো মোটরযান প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।’ সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে সরকার।শুধু গাড়ি কেনা নয়, সরকার গাড়ি ক্রয়ের ব্যয়সীমাও গত ১ আগস্ট বাড়িয়েছে। এখন ৯৪ লাখ টাকার বদলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দামের গাড়ি কেনা যাবে।ডিসি ও ইউএনওদের জন্য গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকার নীতিগত অনুমোদন দিলেও ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের জন্য নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব পড়ে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ১১ সেপ্টেম্বর নতুন গাড়ি কেনার জন্য ২০ কোটি টাকা চেয়ে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।প্রশ্ন তোলা অসংগত হবে না যে ডলার-সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব সংগ্রহের এ পরিস্থিতিতে নতুন গাড়ি কেনা অপরিহার্য ছিল কি না।জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদঅর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সরকার প্রয়োজনে সমাপ্ত প্রকল্পের গাড়িগুলো উদ্ধার করে আপাতত ডিসি ও ইউএনওদের দিতে পারত। পরে সংকট কেটে গেলে তাঁদের নতুন গাড়ি কিনে দেওয়া যেত। প্রকল্পের গাড়ি সরকারের পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বারবার চিঠি দিয়েও গাড়ির হিসাব পায়নি। সর্বশেষ চিঠি দেওয়া হয়েছে সেপ্টেম্বরে।নতুন গাড়ি কিনতে সরকারের সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে না। কিন্তু প্রগতি গাড়ির সব যন্ত্রাংশ আমদানি করে শুধু সংযোজন করবে। ফলে তাদের গাড়ি আমদানি করতে দেশের ডলারই ব্যয় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে মার্কিন ডলারের প্রকৃত মজুত (আইএমএফকে যে হিসাব দেওয়া হয়) এখন ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে নেমে গেছে। শর্ত অনুযায়ী ডলারের মজুত না থাকলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের কিস্তি ছাড় না–ও করতে পারে।বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘২৬১টি গাড়ি কিনতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ ফেলার মতো অত বেশি টাকা লাগবে না। তারপরও বলব, এই ৩৮২ কোটি টাকাও তো টাকা। বিন্দু বিন্দু করেই তো সিন্ধু হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আগে দেখার দরকার নতুন গাড়ি কেনার যৌক্তিকতাটা কী এবং এর মাধ্যমে কী বার্তা যাচ্ছে? এ প্রশ্ন তোলা অসংগত হবে না যে ডলার–সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব সংগ্রহের এ পরিস্থিতিতে নতুন গাড়ি কেনা অপরিহার্য ছিল কি না। গাড়ি বেশি দরকার হলে আপাতত ভাড়া নেওয়া যেত। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে পরে কেনার চিন্তা করা যেত।’সুত্র- প্রথম আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ অক্টোবর ২০২৩


যানজটে স্থবির ঢাকা, দেখার কেউ নাই

যানজটে স্থবির ঢাকা, দেখার কেউ নাই

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার পর থেকে তীব্র যানজট শুরু হয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। যানজটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে শেরেবাংলা নগর এলাকায় ভিভিআইপি মুভমেন্ট ছিল। এ কারণে মিরপুর রোডের কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।পরে সকাল ১০টার দিকে এসব এলাকায় যানজট কিছুটা কমে আসে। তবে বেলা ১১টার পর থেকে মিরপুর রোড, মহাখালী, শাহবাগে যানজট বেড়ে যায়।জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অস্মিতা বিশ্বাস সকাল ১০ টার দিকে পুরান ঢাকা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। আড়াই ঘণ্টা পর তিনি সাড়ে ১২ টার দিকে গন্তব্যে পৌঁছান। অন্যান্য দিন তাঁর এই পথে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে। এর মধ্যে তিনি শাহবাগেই ৫০ মিনিট আটকে ছিলেন বলে জানান.রমনা এলাকায় যানজটের কারণ হিসেবে পুলিশ জানায়, মগবাজার এলাকায় রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী পড়েছিল। এতে যানজট বাড়ে। সেখানে একটি গার্ডার পড়ে যাওয়ার কারণেও যানজট হয় বলে জানায় পুলিশ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বিকেলে আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা–কর্মীরা সমাবেশস্থলে যাচ্ছেন। এ কারণেও যানজট হয়। বেসরকারি একটি ব্যাংকে চাকরি করেন সোহেল রানা। সকাল ৯টার দিকে তিনি জানান, গাবতলী থেকে শ্যামলী আসতে তাঁর এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। রাস্তায় যানজট না থাকলে এতটুকু পথ আসতে তাঁর ১৫ মিনিট সময় লাগে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের দায়িত্বে থাকা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ভিভিআইপি মুভমেন্ট ও মগবাজার রাস্তায় একটি গার্ডার পড়ে থাকায় যানজট বেড়েছে। সকাল ১০টার দিকে রাস্তা থেকে গার্ডারটি সরিয়ে ফেলার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১২ অক্টোবর ২০২৩


‘জনগণ আমাদের পাশে আছে’

‘জনগণ আমাদের পাশে আছে’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশবাসী সব সময় তাঁর দলের পাশে আছে। তাই আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। তিনি টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী-অঙ্গসংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এই মতবিনিময় করেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামনে আগামী নির্বাচন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, জনগণ তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে সব সময় আমাদের পাশে আছে।’বারবার প্রাণনাশের চেষ্টা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বুলেট ও বোমার মুখোমুখি হয়ে তাঁরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।শেখ হাসিনা বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি কাজ দিয়েছেন এবং কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করবেন।আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমাকে রক্ষা করতে উপরে আল্লাহ আছেন আর মাঠে আমার দলের নেতা-কর্মীরা আছেন। যখনই আমার ওপর কোনো হামলা হয়, আমার দলের লোকেরা সব সময় আমাকে রক্ষা করে।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন। এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, দলের লোকেরা তাঁদের জীবনের বিনিময়ে মানবঢাল বানিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছেন।শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, এটাই বড় কথা।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীকে উন্নত ও সুন্দর জীবন দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সবকিছু করছি।’বারবার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি তাঁর টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার আপনজনদের হারানোর পর দেশের মানুষ এবং আমার দলের নেতা-কর্মীরাই আমার স্বজন।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘কাছের মানুষগুলো আমার পাশে না থাকলে সফল হওয়া সম্ভব হতো না।’বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা-খাদ্যসংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে বলেন। তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে প্রতি ইঞ্চি জমি চাষের আওতায় আনুন। আমাদের নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সংযোগের উদ্বোধন করেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ড. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে মহাসমাবেশে ভাষণ দেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়া যান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছানোর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১১ অক্টোবর ২০২৩


বাংলাদেশে একটানা ১৪ বছর গণতন্ত্র আছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে একটানা ১৪ বছর গণতন্ত্র আছে: প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুরের ভাঙ্গার কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলাঅনেক জ্ঞানীগুণী মানুষ নেই, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটানা ১৪ বছর আজকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে। স্থিতিশীলতা আছে। যে কারণে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়া গেছে। সমগ্র বাংলাদেশে ওয়াইফাই সংযোগ আছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রেল যোগাযোগ উদ্বোধন উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গার কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য কাজ করে। দেশের কল্যাণে কাজ করে। আমরা দেশকে আরও উন্নত করতে চাই।’ পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিলে অনেকে বলেছিলেন এটা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের টাকায় এই খরস্রোতা নদীতে সেতু করা সম্ভব নয়। আমি জানি অনেক জ্ঞানীগুণী মানুষ আমার সঙ্গে নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আছে। বাংলাদেশের মানুষ পাশে থাকলে অসাধ্য সাধন করা যায়—সেটাই আমরা করেছি। আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। আজকে সেখানে রেল সেতু চালু করে দিলাম। বঙ্গবন্ধুর সুরে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষকে আর কেউ দাবায় রাখতে পারবে না।’ আবার ক্ষমতায় এলে ফরিদপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে: শেখ হাসিনাআবার ক্ষমতায় এলে ফরিদপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়া হবে: শেখ হাসিনাএ সময় দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত আসলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে। এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য একমাত্র নৌকা মার্কাই আপনাদের সব রকম সহায়তা দেবে। আপনাদের কাছে আমার আহ্বান নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।’ নৌকাই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আনে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই লুটেরা বিএনপি। যে এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। দুর্নীতি করে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। যে পলাতক আসামি। মুচলেকা দিয়ে দেশে ছেড়ে ভেগেছে। অর্থ আত্মসাৎ করেছে, অস্ত্র চোরাকারবারি। এই হলো বিএনপির নেতা। আর জামায়াতে ইসলামী হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী। যুদ্ধাপরাধের দায়ে শাস্তি দিয়েছি। এরা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য একমাত্র নৌকা মার্কাই আপনাদের সব রকম সহায়তা দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান, আজকে পদ্মা সেতুতে রেললাইন আপনাদের উপহার দিয়ে গেলাম। আপনারা ফরিদপুরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।’ ফরিদপুরের ভাঙ্গার কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলাফরিদপুরের ভাঙ্গার কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলাশেখ হাসিনা বলেন, ‘এত দিন-রাত পরিশ্রম করে এ দেশের উন্নতি করেছি। হাজার হাজার মাইল রাস্তাঘাট। গ্রামে কাঁচা রাস্তা খুব কমই আছে। যা আছে ভবিষ্যতে সেটাও পাকা করে দেব। রেল সম্প্রসারণ করে দিচ্ছি। নৌপথ ড্রেজিং করে সম্প্রসারণ করছি। বিমান কিনে বিমানপথ চালু করে দিচ্ছি। বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে উন্নয়ন করে সারা বিশ্বে আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। নৌকা আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকা পদ্মা সেতু, রেলসেতু করে দিয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নতি করেছে। নৌকা আপনাদের কলেজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে।’ পদ্মা রেলসেতু চালুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এসেছি একটি উপহার নিয়ে। সেটি হচ্ছে রেল। আমি ট্রেনে করে ভাঙ্গায় এসেছি। এটা কেউ কখনো চিন্তাও করতে পারেনি। আমি আপনাদের পদ্মা সেতুর সঙ্গে সঙ্গে রেললাইনও উপহার দিয়ে গেলাম।’ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের কোনো ভোটের অধিকার ছিল না। অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন করেছিল। আমরা ভোট ও ভাতের অধিকারের সংগ্রাম করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি। মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া। এঁদের সময় কেউ ভোট দিতে পারত না। দশটা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা। এখন আর সেই অবস্থা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমার মুক্তিযোদ্ধারা আছেন। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। আজকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমি ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করে দিচ্ছি। কেন, আমাদের ধর্মটা সম্পর্কে যেন মানুষ জানে। সব ধর্মের সব মানুষ তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। স্বাধীনভাবে তারা ধর্ম পালন করবে। এটাই আমাদের নীতি। ইসলাম ধর্ম সেটা শেখায়। যার যার ধর্ম সে পালন করবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’ ধ্বংস করাই বিএনপির চরিত্র বলে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি এসে কী করেছে? সবার ওপর অত্যাচার। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা। কাউকে ছাড়েনি তারা। কিন্তু আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে গড়তে চায়। আজকে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এ দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।’ পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের ঘটনা বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি সামান্য ব্যাংকের এমডির পদের জন্য...সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে হেরে গেল। আর সেই ক্ষোভে হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে বিশ্বব্যাংকের টাকা বন্ধ করে দুর্নাম দিতে চেয়েছিল, পদ্মা সেতুর টাকায় দুর্নীতি হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, দুর্নীতি করতে আসিনি। মানুষের সেবা করতে এসেছি। শেখ মুজিবের মেয়ে দুর্নীতি করে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি সবার অনেক দিনের আশা, এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার। ইনশা আল্লাহ, ভবিষ্যতে সরকারে আসতে পারলে আমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব।’ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ওয়াদা দিয়েছিলেন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন সবার হাতে মোবাইল ফোন। সবাই অনলাইন ব্যবহার করেন। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত লোকজনের কাছে শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘কী, মোবাইল ফোন আছে না হাতে, আছে? কই দেখি’—উপস্থিত মানুষজন তখন তাঁদের সঙ্গে থাকা মোবাইল হাতে তুলে ধরে দেখান প্রধানমন্ত্রীকে। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মোবাইল ফোন কে দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর।’

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১০ অক্টোবর ২০২৩


পদ্মা সেতু রেল সংযোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে নতুন ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এক সুধী সমাবেশে নতুন রেল পথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে রেলের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যার ফলে পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি প্রসার হবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার। যা অবদান রাখবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সড়ক পথে গণভবন থেকে মাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মাওয়ায় পৌঁছান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে বিশেষ ট্রেনে করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ১০ অক্টোবর ২০২৩


দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টায় নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন এ টার্মিনাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং কথা বলেন। পরে টার্মিনালের করিডোর ঘুরে দেখেন। বিমানন্দরের প্রক্রিয়া অনুযায়ী, তিনি লাগেজ চেকিং করান, বোর্ডিং পাস নেন এবং যথারীতি তিনি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষে কাউন্টার পার হন। পরে তিনি প্রি বোর্ডিং সিকিউরিটি স্ক্যান করান এবং চলন্ত ওয়াকওয়ে পার হয়ে বোর্ডিং ব্রিজে যান।বিভিন্ন স্পটের আলোকচিত্রে বিমান ও বিমানবন্দরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এগুলো অবলোকন করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে নানা বিষয়ে ব্রিফ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।বিমানবন্দরের এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে থার্ড টার্মিনাল প্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানস্থলে পৌছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো অডিয়েন্স দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে ঠোঁট মেলান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিমান সচিব মোকাম্মেল হোসেন প্রমুখ।পরে তৃতীয় টার্মিনাল, বিমান ও বিমানবন্দরের উন্নয়নের ওপর একটি ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়। বেবিচকের কর্মকাণ্ডের ওপরও একটি ডকুমেন্টরি দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, জাপান ও জাইকার প্রতিনিধি, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।অতিথিদের বক্তব্যের পর প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে খুললো ঢাকার আকাশপথে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সেবার মান বাড়বে। যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে। যাত্রীদের চাপের কারণে যে ভোগান্তি তৈরি হয় সেটি কমবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীর সেবা দেওয়া হয়, তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে আরও এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া যাবে।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, এরই মধ্যে প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ (যন্ত্রপাতি স্থাপন, জনবল নিয়োগ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং) চলমান। আগামী বছরের ডিসেম্বরের দিকে টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘উদ্বোধনের দিন একটি উড়োজাহাজ তৃতীয় টার্মিনালের পার্কিং অ্যাপ্রোনে রাখা হবে। এখন ইকুইপমেন্টগুলো বসানোর কাজ চলছে। তবে সফট ওপেনিংয়ের পর এয়ারলাইনগুলো নতুন পার্কিং অ্যাপ্রোন ও ট্যাক্সিওয়ে ব্যবহার করতে পারবে। আগামী বছরের শেষের দিকে যাত্রীরা টার্মিনালটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।'বেবিচক সূত্র জানায়, এখন শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ এর অ্যাপ্রোনে ২৯টি বিমান রাখা যায়। ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অ্যাপ্রোনে আরও ৮ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ রাখা যাবে। ফলে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করে রাখা যাবে। নতুন টার্মিনালে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে আগামী অক্টোবরে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ চালু হবে। বহির্গমনের জন্য মোট চেক-ইন কাউন্টার থাকবে (১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক-ইন কাউন্টার সহ) ১১৫টি।এছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ কাউন্টারসহ বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে ৬৬টি। আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি কাউন্টার থাকবে। তৃতীয় টার্মিনালে আগমনী যাত্রীদের জন্য ১৬টি লাগেজ বেল্ট থাকবে। অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য থাকবে চারটি আলাদা বেল্ট।বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের নিচতলায় থাকবে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম। দ্বিতীয় তলায় থাকবে বহির্গমন লাউঞ্জ, ক্যানটিন ও বোর্ডিং ব্রিজ। থাকবে সুপরিসর ডিউটিফ্রি শপ এবং বহির্গমন লাউঞ্জ। দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনে বছরে যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৭ অক্টোবর ২০২৩


'দেখি কে সাহস পায় নিতে...ক্ষমতা', সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

'দেখি কে সাহস পায় নিতে...ক্ষমতা', সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাকে বেশি কথা বললে সব বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব। ইলেকশনের পরে, যদি আসতে পারি, আবার করব। তারপর দেখি কে সাহস পায় নিতে...ক্ষমতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব গুছিয়ে দেওয়ার পরে এখন ইলেকশনের কথা, ভোটের কথা, অর্থনীতির কথা, পাকা পাকা কথা শুনতে হয়। আমি তো শুনতে রাজি না।’শুক্রবার (৬ অক্টোবর) গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় এক সাংবাদিক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুলিভানের সঙ্গে বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। আমার মনে পড়ে না, এ ধরনের কোনো কথা হয়নি। আমাকে কেউ এ ধরনের কথা জিজ্ঞেসও করেনি। ২০০৭-৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, এরপর এটা কেউ চায়? এই পদ্ধতি তো বিএনপি নষ্ট করে দিয়েছে।বিএনপির আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আন্দোলন করে যাচ্ছে, আমরা তো কোনো বাধা দিচ্ছি না। তারা তো আন্দোলন করে যাচ্ছে, লোক সমাগম করে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা। এতকাল চুরিচামারি করে যত পয়সা বানিয়েছিল এবং যত টাকা মানিলন্ডারিং হয়েছিল, সেগুলো এখন ব্যবহার হচ্ছে। অন্তত সাধারণ মানুষের কাছে কিছু টাকা তো যাবে। তারা যত আন্দোলন করবে, সাধারণ মানুষের পকেটে কিছু টাকা যাবে। মানুষ কিছুটা টাকা পাক এই দুঃসময়ে, সেটা তো ভালো।তিনি বলেন, এই টাকাগুলো বের হওয়া দরকার তো। সেই টাকাও বের হচ্ছে, মানুষও কিছু টাকা পাচ্ছে। আমি বলেছি, কিছু বলার দরকার নাই তারা আন্দোলন করতে থাকুক। তবে হ্যাঁ, মানুষের যদি কোনো ক্ষতি করতে চেষ্টা করে অগ্নিসন্ত্রাস ওই ধরনের কিছু করে তখন তো ছাড়ব না। কারণ আমাদের সঙ্গে তো জনগণ আছে, আমাদের কিছু করা লাগবে না। জনগণকে ডাক দিলে তারাই ঠান্ডা করে দেবে। যখন অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল তখন সাধারণ মানুষই কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিল, এবারও তা হবে। তাদের সেট লোক আছে আসে, চলে যায়, খায়-দায়। মানুষ যদি কিছু টাকা পয়সা পায় তাতে ক্ষতি কি। আমি সাংবাদিকদের বলব, তাদের এই টাকার উৎস কি সেটা খবর নেওয়ার দরকার, তারা এত টাকা কোথায় থেকে পায় এবং এত টাকা কীভাবে খরচ করে, সেটার একটু খোঁজ নেওয়া দরকার।শেখ হাসিনা বলেন, বলেন, সামনে পূজা, আমরা সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি এবং করব। আমরা অনুরোধ করেছি পূজামণ্ডপগুলো যেখানে সেখানে না করে, কলকাতায় এত বেশি জনসংখ্যা কয়টা পূজামণ্ডপ হয় সেই হিসেবে তো বাংলাদেশে অনেক বেশি হয়। তারপরও আমাদের স্থানীয় জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই সচেতন আছে এটার নিরাপত্তার দেওয়ার জন্য। বিএনপির আমলের অত্যাচার থেকে হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কেউ বাদ যায়নি। আবার সেটা যেন না করতে পারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে, সবাইকে সচেতন থাকতে পারে।সরকারপ্রধান বলেন, তারা যদি দুর্গাপূজার দিকে কোনো দৃষ্টিই না দেয় তারপরও যদি আন্দোলন করতে থাকে, তারা তো তারিখ দিয়েই যাচ্ছে অমুক তারিখ ফেলে দিবে, তমুক তারিখ ফেলে দিবে। দিতে থাক অসুবিধা নাই, আমি এটাতে মাইন্ড করছি না। আমি মনে করি ভালো। আন্দোলনটা থাকলে মানুষ বেশ গরম থাকে, আমার পার্টিও ভালো থাকে, তখন আবার তারা নেমে পড়ে। মাঝে একটু ডিল দিয়েছিল কেউ নাই বলে, এখন এমপি সাহেবরাও দৌড়াচ্ছে এলাকায়, এখন সবাই দৌড়াদৌড়ি, ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। যার যার পজিশন ভাটায় টান দিয়েছিল, এখন দেখি তারা ভালোর দিকে যাচ্ছে। তবে পূজার সময় যেন কোনো অপকর্ম না করতে পারে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।বিএনপি বলছে, আপনি আপনি খালি হাতে ফেরত এসেছেন– এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলেছে আমি খালি হাতে আছি এইতো? আমি কোনো উত্তর দিতে চাই না। আমি শুধু দেশবাসীকে বলতে চাই, বিএনপি নেতারা মাইক লাগিয়ে কী হারে মিথ্যা কথা বলে,সেটি আপনারা জেনে নেন। মিথ্যা বলা তাদের অভ্যাস। তাদের সবকিছুকেই খাটো করে দেখার চেষ্টা থাকে। এটার বিষয়ে দেশবাসী যেন একটু সচেতন থাকে। তাদের মিথ্যা কথায় কেউ কান দেবেন না। মিথ্যা কথা কেউ বিশ্বাস করবেন না। এটাই আমার আহ্বান।শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি তো মাইক একটা লাগিয়েই রাখে। বলে আমাদের কথা বলতে দেয় না। আমরা নাকি তাদের মিছিল মিটিং করতে দিই না। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, বেশি দূর যাওয়ার কথা নয়, ২০০১–এ থাকতে আমাদের সাথে কী আচরণটা করত। আমাদের নেতাকর্মী এখানে অনেকেই আছে, ধরে নিয়ে যেভাবে দিনের পর দিন তাদের ওপর টর্চার (নির্যাতন) করেছে, অত্যাচার করেছে, আমরা যদি তার একটা কণাও করতাম, তবে ওদের অস্তিত্বই থাকত না। আমরা তো ওদের খুলে দিয়েছি, যা খুশি করো। নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে আসো।তিনি বলেন, অবশ্যই প্রতিযোগিতা থাকতে হবে, বিরোধী দল থাকতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল কে? পার্লামেন্টে একটা সিট নাই। বিরোধী দল হিসাব করে তো রাখা যায় না। যার নির্বাচন করার মতো সাহস নেই। নির্বাচন করে পার্লামেন্টে আসতে পারে না। তারা আবার বিরোধীদল কীসের? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংসদে যাদের আসন আছে, তারাই বিরোধী দল। রাস্তায় কে ঘেউ ঘেউ করে বেড়াল, সেটাকে বিদেশে কখনো বিরোধী দল হিসেবে ধরে না। এটা সবার মনে রাখা উচিত।প্রার্থী মনোনয়নে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদের বিবেচনা করবআগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন কোন বিবেচনায় দেওয়া হবে– এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, সেটাই আমরা বিবেচনায় দেখব, বিবেচনা করব। প্রতি ছয় মাস পর পর আমি কিন্তু সার্ভে করি। কারো পজিশন খারাপ হলে সরাসরি মুখের ওপর বলে দিই। আমরা প্রপার সচেতন বলে নির্বাচনে জনগণের আস্থা পাই, ভোট পাই এবং নির্বাচনে জয়ী হই।শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, যারা সংসদ সদস্য আছেন তারা কতটুকু জনগণের জন্য কাজ করেছেন, জনগণের আস্থা, বিশ্বাস কতটুকু অর্জন করেছেন, আমরা সেটাকেই বিবেচনা নিই। সেটা বিবেচনায় নিই বলে আমরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি। আমাদের সংসদ সদস্য, মন্ত্রীরা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ না করত, তাহলে বাংলাদেশের এত পরিবর্তন হতো না।অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও মহলের মন্তব্য প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তো আমিই বলেছি। আমরা আব্রাহাম লিংকনের যেটা জানি, গভর্মেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল– এটা তো আমরাই এস্টাবলিশড করেছি। গভর্নমেন্ট ফর দ্য আর্মি, বাই দ্য আর্মি থেকে তো আমরাই রেহাই দিয়েছি।তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীসহ কত মানুষকে হত্যা করেছে। বিমানবাহিনীর কত অফিসারকে হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর কি অকথ্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং ও যত কর্ম-অপকর্ম বাংলাদেশে ছিল সেগুলো থেকে মুক্ত করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেশন জট ছিল, সেটা থেকে আমরা উদ্ধার করেছি। এসব করে যখন একটা নিয়মতান্ত্রিক দেশ পরিচালনা করছি এবং দেশটা যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে, তখন হঠাৎ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সবার এত মাতামাতি কেন– সন্দেহ হয় রে। এটাই বলতে হয়, সন্দেহ হয় রে।

নিজস্ব প্রতিবেদক । ০৭ অক্টোবর ২০২৩